Atheist in Bangladesh

কুরআন আসলে কার বাণী: আল্লাহর, জিব্রাইলের নাকী মুহাম্মদের ?

এমডি মাহাদি হাসান: মুসলমানরা দাবি করে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআন আল্লাহর তরফ থেকে নাজিল হয়েছে l অর্থাত কুরআনের সমস্ত বাণী স্বয়ং আল্লাহর l এবং তাদের দ্বাবি কুরআনে যেহেতু আয়াতগুলো উত্তম পুরুষে বর্ণিত হয়েছে অর্থাত আমি বা আমি আল্লাহ এই সব সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে তাই কুরআন অবশ্যই আল্লাহর বাণী বা ঐশী বাণী l

যারা কুরআনকে কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে স্বীকার করে না তারা বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রমান করে দেয় যে কুরআন আল্লাহর বা সৃষ্টিকর্তার বাণী নয় l
আসুন দেখি কুরআন কি সত্যিই কোন সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে নাকি কোন মানুষ কুরআন তৈরী করেছে !

আমরা জানি আল্লাহ কুরআনকে গ্রন্থ আকারে মুহাম্মদের কাছে পাঠায়নি l বরং এটি বিভিন্ন সময়ে জিব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মদের কাছে পাঠানো হয়েছে l জিব্রাইলকে মুহাম্মদ ছাড়া অন্য কেউই দেখেনি ! আর তাই কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী কিনা অথবা এটি কোন ঐশী বাণী কিনা সে সম্পর্কে কোন প্রমান নেই l
যদি কুরআন সত্যিই আল্লাহর বাণী হয়ে থাকে তবে এতে উল্লেখিত সব বাণী উত্তম পুরুষে অর্থাত আমি বা আমি আল্লাহ প্রভৃতি সর্বনাম ব্যবহৃত হবে l
কুরআনের প্রথম সুরা “সুরা ফাতেহা”-এর প্রতি লক্ষ করে দেখি কি বলা হয়েছে !
১. আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, যিনি পরম করুনাময় ও অতি দয়ালু l
২. আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক l
৩. যিনি পরম করুনাময়, অতিশয় দয়ালু l
৪. যিনি প্রতিফল দিবসের মালিক l
৫. আমরা শুধুমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি l
৬. আমাদেরকে সরল সঠিক পথ-প্রদর্শন করুন l
৭. তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের নয় যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে, এবং তাদেরও নয় যারা পথভ্রষ্ট l

লক্ষ করুন এই সুরাতে উত্তম পুরুষে বর্ণনা করা হয়নি l এই সুরা পড়লে মনে হয় এটা মানুষের বাণী, আল্লাহর বাণী নয় ! তাহলে কুরআনের সব সুরা কি আল্লাহর বাণী ? সুরা ফাতেহা দেখে বুঝা যাচ্ছে এই সুরটি আল্লাহর বাণী নয় বরং মুহাম্মদ বা মানুষের বাণী !
যদি এটা আল্লাহর বাণী হতো তবে সুরার প্রথমে লেখা থাকত “বলো” তারপরে সুরটি লেখা হতো, তবে এটাকে আল্লাহর বাণী বলে দাবি করা যেত l যেমন –
১. বলো – “আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, যিনি পরম করুনাময় ও অতি দয়ালু l
২. আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক l
৩. যিনি পরম করুনাময়, অতিশয় দয়ালু l
৪. যিনি প্রতিফল দিবসের মালিক l
৫. আমরা শুধুমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি l
৬. আমাদেরকে সরল সঠিক পথ-প্রদর্শন করুন l
৭. তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের নয় যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে, এবং তাদেরও নয় যারা পথভ্রষ্ট l ”

কিন্তু কুরআনের সুরা ফাতেহার প্রথমে “বলো” কথাটি লেখা নেই l আর তাই এটি আল্লাহর বাণী নয় ! যদি এটা সত্যিই আল্লাহর বাণী হতো তবে সুরার প্রথমে “বলো” কথাটি লেখা থাকত l অথবা সুরটি হতো এই রকম :
১. শুরু কর আমার নামে, আমি পরম করুনাময় ও অতি দয়ালু l
২. সমস্ত প্রসংসা আমার জন্য, আমি জগতসমূহের প্রতিপালক l
৩. আমি পরম করুনাময়, অতিশয় দয়ালু l
৪. আমিই প্রতিফল দিবসের মালিক l
৫. সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো এবং আমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো l
৬. কারণ আমিই তোমাদের সরল সঠিক পথ-প্রদর্শন করি l
৭. তাদের পথ যাদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছি; তাদের নয় যাদের প্রতি আমার গযব বর্ষিত হয়েছে, এবং তাদেরও নয় যারা পথভ্রষ্ট l
সুরা ফাতিহা যদি এরকম হতো তবে এটাকে আল্লাহর বাণী বলে দাবি করা যেত l অথবা যদি সুরার প্রথমে “বলো” কথাটি লেখা থাকতো তবুও এটাকে আল্লাহর বাণী বলে দাবি করা যেত l
কিন্তু সুরা ফাতেহা ঠিক ওরকম নয় l বরং এটি কোন মানুষের বাণী এভাবেই লেখা হয়েছে l
আর তাই সুরা ফাতেহা আল্লাহর বাণী নয় l

আবার কুরআনের কিছু কিছু আয়াত পড়লে মনে হয় এটি আল্লাহর বাণী নয় l বরং এটি কোন মানুষের বাণী; অথবা এটি অন্য কারো বাণী l যেমন :-
সুরা নামল, আয়াত ৮৬ :
“তারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছি আলোকপ্রদ?এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্যে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে l ”
এই আয়াতটি পড়লে খুব সহজেই বুঝা যায় এটা সরাসরি আল্লাহর বাণী l অর্থাত আল্লাহ এই আয়াতে সরাসরি বলেছে যে সে নিজেই রাত সৃষ্টি করেছে মানুষের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করেছে আলোকপ্রদ l এবং মানুষের কাছে নিজেই সরাসরি প্রশ্ন করেছে, মানুষকি এসব দেখে না ?

আবার সুরা নাহল-এর ১২ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে;
“তিনিই তোমাদের কল্যানে নিয়োজিত করেছেন রজনী, দিবস, সূর্য এবং চন্দ্রকে; আর নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তারই হুকুমে; অবশ্যই এতে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে রয়েছে নিদর্শন l ”
লক্ষ করুন এই আয়াতে কিন্তু উত্তম পুরুষ বা আমি সর্বনাম ব্যবহৃত হয়নি ! বরং এই আয়াত পড়ে মনে হচ্ছে এটি অন্য কেউ বলেছে l এখানে বলা হয়েছে তিনিই (আল্লাহই) তোমাদের (মানুষের) কল্যানে নিয়োজিত করেছেন …. l অর্থাত এই আয়াতটি সরাসরি আল্লাহর নয়; এমনকি কোন মানুষেরও নয় l এই আয়াতটি অন্য কারো l যেহেতু জিব্রাইল (গ্যাব্রিয়েল) ফেরেশতা মুহাম্মদের কাছে আল্লাহর বাণী নিয়ে আসতো সুতরাং এই কথাটি জিব্রাইলের l অর্থাত এটি আল্লাহর বাণী নয় বরং জিব্রাইলের বাণী l আর তাই জিব্রাইল বলছে তিনিই (আল্লাহ) তোমাদের জন্যে কল্যানে নিয়োজিত করেছেন …. l
যদি এটি আল্লাহর বাণী হয় তবে আল্লাহ কেন বলবে -“তিনিই তোমাদের কল্যানে নিয়োজিত করেছেন …. “? এই তিনিটা তাহলে কে ? আল্লাহ নাকি আল্লাহর সৃষ্টিকর্তা ?
সুতরাং এই আয়াতটি স্বয়ং আল্লাহর নয়; এটি জিব্রাইলের বাণী l

যদি কুরআনের বাণী স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার হয়ে থাকে তাহলে কুরআনের এই আয়াতগুলো কেন উত্তম পুরুষে লেখা হয়নি ? কেন কিছু কিছু আয়াত আল্লাহর উদৃতি দেয়া, কিছু কিছু আয়াত জিব্রায়লেব্র উদৃতি দেয়া আবার কিছু কিছু আয়াত মুহম্মদের উদৃতি দেয়া ? এটা কি সন্দেহের কারণ নয় যে কুরআন আল্লাহর বাণী নয় ? যদি সর্বজ্ঞানী আল্লাহ এই কুরআন লিখতো তবে কুরআনের এই ভুল গুলো থাকতো না l শুধুমাত্র তখনি এই ভুল গুলো থাকা সম্ভব যখন কুরআন মুহাম্মদ নামের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত কোন স্বাধারণ মানুষের লেখা হবে l
মুহাম্মদ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত, মতান্তরে নিরক্ষর l আর তাই মুহাম্মদ কুরআন তৈরী করার সময় এই ভুলগুলো করেছে নিজের অজান্তে l কিন্তু একবার লেখা হয়ে যাবার পড়ে সেটা পরিবর্তন করার মত সুযোগ বা প্রয়োজনীয়তা ছিলনা মুহাম্মদের l আর তাই এই ভুল গুলো থেকে গেছে !

তাই বলা যায় কুরআন আল্লাহ লিখে পাঠায়নি বরং মুহাম্মদ নিজে কুরআনের বাণী তৈরী করেছে l অর্থাত কুরআন আল্লাহর বাণী নয় এটি মুহাম্মদের বাণী l

বিশেষ দ্রষ্টব্য : পোস্টে উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলো প্রফেসর ড: মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান-এর অনুবাদ থেকে নেয়া হয়েছে l সুতরাং অনুবাদ জনিত ভুলের জন্য লেখক দ্বায়ী থাকবে না !

Print Friendly, PDF & Email

Mdh Mahadi