লিখেছেন তাহসিন আহমেদ
আওয়ামী লীগ দুঃশাসনের বিরূদ্ধে যেভাবে আমাদের ছাত্র জনতা এবং আপামর জনসাধারণ জেগে উঠেছিলেন, সেটা আমাদের মতো যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ পাননি, তাদের জন্যে নতুন এক বিজয় এর চেতনা নিয়ে এসেছিলো। বাংলাদেশ, মনে হয়েছিলো, অবশেষে মুক্ত হলো শেখ পরিবারের অভিশপ্ত দখলদারিত্ব থেকে।
কিন্তু বিধি বাম! হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর, শিবির, যে উগ্র ইসলামী মৌলবাদী দলগুলো এতবছর লুকিয়ে ছিলো, যাদের বিষাক্ত থাবা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত ছিল গত দেড় দশক, যাদের হিংস্রতার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম আওয়ামী-পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা ইসলামী দলগুলোর দৌরাত্মে, তাদের যে সাম্প্রতিক আবির্ভাব, তা বাংলাদেশ নিয়ে সমস্ত আশা ভরসাকে গুড়িঁয়ে দেবার জন্যে যথেষ্ঠ।
সমস্ত ভাষ্কর্য, দেয়ালচিত্র, চিত্রকর্মকে যেভাবে অবমাননা করা হচ্ছে মনে হচ্ছে ১৯৭১ হয়নি, মনে হচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ভুলে যাওয়াটা প্রচন্ড দরকার এই ইসলামী উগ্রবাদীদের জন্যে। যেভাবে মহিলাদের ইরান/আফগানিস্তান ধরণে হেনস্থা করা হচ্ছে, এটা আতঙ্ক-জাগানিয়া। সমকামীদের অধিকার ও নাস্তিক/অবিশ্বাসীদের বাক-স্বাধীনতার জন্যে যে লড়াই, মনে হচ্ছে আমরা আরো ১০০ বছর পিছিয়ে গেলাম এই উগ্র হায়েনাদের কবলে পড়ে।
আজকের অধুনা নবীনদের ওপর যে আস্থা রাখবো স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখবার, সেই বিশ্বাস ও আশাও হারিয়ে ফেলছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে উগ্রপন্থী ইসলামপন্থীদের সাম্প্রতিক দৌরাত্ম্য বিবিধ ছাত্র সংসদীয় নির্বাচনে, তাতে তরুণ প্রজন্ম মৌলবাদীতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনের কারণে ইসলামী মৌলবাদীতার ছায়া আমাকে আতঙ্কিত করে তোলে। কোথায় আমরা দেশ হিসেবে আধুনিকায়নের দিকে আগাবো, সমকামী/উভকামী/নাস্তিকদের সম-অধিকার নিশ্চিত করবো, তা তো নয়ই, আমরা মধ্যযুগীয়র শাসন-ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছি। এই দুঃস্বপ্ন যেন আগামী নির্বাচন এ বাস্তবতায় পরিণত না হয়।
