ধর্মের প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে বিশ্বাস, আরো ভালভাবে বললে অন্ধবিশ্বাস। ধর্ম, ধর্মগ্রন্থের বিধিবিধান এবং বক্তব্য সবকিছুই একজন ধার্মিকের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হয়, এবং মান্য করে জীবন যাপন করতে হয়। কোন ধরণের যাচাই বাছাই অথবা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা মানেই বিশ্বাসটি দুর্বল হয়ে যাওয়া। একজন ধার্মিক কোন অবস্থাতেই তার ধর্ম সম্পর্কে সামান্যতম সন্দেহ করার অধিকার রাখে না। মনে যদি সন্দেহ বা সংশয়ের সৃষ্টি হয় তাহলে সেটিকে ধর্মগুলো মহাপাপ হিসেবে গণ্য করে। একজন ধার্মিককে তার ধর্মের ভুল চোখের সামনে তুলে ধরলেও সে মানতে চাইবে না। সে নানা ধরণের কুযুক্তি এবং ভুল তথ্য দিয়ে তার ধর্মকে সঠিক বলে চালাবার চেষ্টা করবে। আর কেউ যদি ধর্মের ভুল মানুষের কাছে প্রকাশ করে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধানও ধর্ম করে রেখেছে। এই কারণেই ইসলামে ধর্মত্যাগীদের মুরতাদ বলে হত্যা করা হয়, অন্য প্রধান ধর্মগুলোতেও একই অবস্থা। কিন্তু বিজ্ঞানের ব্যাপারটি একেবারেই উলটো।

যেকোন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিষয়ে আপনি সন্দেহ সংশয় যাচাই বাছাই করতে পারেন। এমনকি, কোন মহাবিজ্ঞানীর কোন যুগশ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে আপনি চ্যালেঞ্জও করতে পারেন। আপনি নিউটন-ডারউইন বা আইনস্টাইনের তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করতে পারলে আপনাকে নোবেল পুরষ্কারও দেয়া হতে পারে। কারণ বিজ্ঞানে বিশ্বাসের কোন স্থানই নেই। বিজ্ঞান কাজ করে যুক্তি তথ্য প্রমাণ যাচাই বাছাই এবং পরীক্ষার ওপর। আপনাকে এরকম বলা হবে না যে, নিউটনের প্রতি ভক্তি স্বরূপ তার সব কথাকে বিশ্বাস করতে হবে, বা নিউটনের সমালোচনা শাতিমে নিউটন বলে গণ্য হবে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড! হেফাজতে বিজ্ঞান নামে একটি সংগঠন আপনার ফাঁসিও চাইবে না। বরঞ্চ বিজ্ঞানীদের সংগঠনগুলো আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে।

তাই বিজ্ঞান ও বিশ্বাস মৌলিকভাবেই পরস্পর বিরোধী অবস্থানে থাকে। একটি প্রমাণ নির্ভর, আরেকটির ভিত্তি প্রমাণ ছাড়াই মেনে নেয়া এবং সন্দেহ না করা।

By Jahed Ahmad

Free thinker and strong believer in equality. I think, therefore I am.

Leave a Reply