Atheist in Bangladesh

মুহাম্মদ কে নবী হওয়ার আগেই নবী বানানো।

আমি আপনি… আমরা অধিকাংশই নবীকে নিয়ে বিভিন্ন গল্প কাহিনী শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু এগুলো কতোটুকু সত্য? কতোটুকু বাস্তবিক। ধর্ম বা অন্ধবিশ্বাসের একটা দিক হলো এটা শুধু একটা বিষয়ে থেমে থাকে না। মানুষ অন্ধবিশ্বাস করা শুরু করলে নিজেরাই একের পর এক অন্ধবিশ্বাসের জন্ম দিতে থাকে। ঠিক তেমনটাই হয়েছে ইসলাম ও মুহাম্মদের ক্ষেত্রে। মুহাম্মদের নবী হওয়ার পরে আজগুবি, গাঁজাখুরি গল্পকথা গুলো নাহয় বাদই দিলাম কিন্তু মুসলিমদের মাঝে মুহাম্মদের নবী হওয়ার আগেও নানা মিথ্যা ও ভাঁওতাবাজি গাল গল্প প্রচলিত।

নবী হওয়ার আগে মুহাম্মদের জীবন কেমন ছিলো, সে কি করে বেড়িয়েছে তার খুব একটা মজবুত ইতিহাস কোথাও পাওয়া যায় না। কিন্তু এই সময়ের নানা গাল গল্প আমরা বিভিন্ন ইসলামিক মনিষীদের ভিতর দেখি। আপনি এখনি বাজারে গিয়ে কোনো লাইব্রেরীতে যান। শত শত বই দেখতে পারবেই এই টাইপের যে “নবী মুহাম্মদের মুজেজা সমুহ” “নবী করিম (সাঃ) এর অলৌকিক ঘটনা সমূহ” এমনকি মুহাম্মদের সাহাবীরাও বাদ যায়নি ইসলামের মনিষীদের বানোয়াট গল্পের জাল থেকে। তারা সাহাবীদের নামেও বিভিন্ন মিথ্যা অলৌকিক ও ভাওতা গল্প শোনায়। যেখানে মুহাম্মদ নিজে কোনোদিন কোনো অলৌকিক কোনো ঘটনা দেখাতে পারেনি এবং যতোবারই তাকে আলৌকিক কিছু দেখানোর কথা বলা হয়েছে মুহাম্মদ ততোবারই এই বলে ল্যাজ গুটিয়ে কাটিয়েছে যে “আমি তো শুধু সাবধানকারী মাত্র” বা “এই কোরাণই হলো আমার একমাত্র মুজেজা বা অলৌকিকত্ব” ইত্যাদি ইত্যাদি সেখানে এটা কিভাবে সম্ভব যে মুহাম্মদের সাহাবীরা অলৌকিক, তেলেসমাতি মুজেজা দেখাবে? মুহাম্মদদের নামে যেসব অলৌকিক গল্প বাজারে প্রচলিত আছে তার অধিকাংশই পরবর্তী মুসলিমদের কল্পনা ও মুসলিম লোককথা যার কোনো ভিত্তি নেই। আর সবচাইতে বড় বিষয় হলো মুহাম্মদের নবী হওয়ার আগে তার জীবনী কারো জানার কথাও না কারণ নবী হওয়ার আগে মানুষ কেনো মুহাম্মদের জীবনি লিখতে যাবে বা সে কি করে বেড়াচ্ছে তাতে কার কি আসে যায়? মুহাম্মদ মানুষের নজরে আসে তখন যখন সে নিজেকে নবী বলে দাবী করা শুরু করে। তাছাড়া নবী হওয়ার আগে চাচার দয়ায় লালিত পালিত একজন এতিম ছেলের খবর কেউ কেনো রাখতে যাবে? যেহেতু নবী হওয়ার আগের মুহাম্মদ সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানি না তাই পরবর্তীতে মুসলিমদের মধ্যে সেই সময়ের মুহাম্মদের জীবনি নিয়ে অনক ভিত্তিহীন কল্পনা কাহিনী ও আজগুবি গল্পের জন্ম হয়। মানুষ কল্পনা থেকে বিভিন্ন আলৌকিক গল্প মুহাম্মদের জীবনী নিয়ে বলতে থাকে। আলী দুস্তি তার বই “নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর” বইতে লেখেন—

আলী দুস্তি- মুহাম্মদের জীবনের প্রথম চল্লিশ বছর,অর্থাৎ ৬১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত, তেমন কিছুই জানা যায় না। নবীর জীবনীতে অথবা লোকপ্রবাদেও এই সময়ের কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে তৃতীয় হিজরি বা নবম শতাব্দীতে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এবং কোরানের তফসিরকারক আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জরির আল-তাবারি সুরা বাকারা’র ২৩ নম্বর আয়াতের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে মুহাম্মদের জন্ম নিয়ে এক ভিত্তিহীন দাবি করেন। তার এই দাবী থেকে বোঝা যায় সেই সময় সাধারণ মানুষ নবির জীবন-কাহিনী নিয়ে প্রচুর কাল্পনিক বক্তব্যে বিশ্বাস করতো। এমন কী কাল্পনিক লোককথার প্রভাব থেকে তাবারির মতো ঐতিহাসিকও মুক্ত ছিলেন না। সুরা বাকারা’র ঐ আয়াতে বলা হয়েছে : “আমি আমার দাসের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকলে তোমরা তার মতো কোনো সুরা আনো। আর তোমরা যদি সত্য বল,আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সব সাক্ষীকে ডাকো।”(২:২৩)। তাবারি এই আয়াতের তফসির করতে গিয়ে নিজস্ব মন্তব্য যোগ করেছেন যে : ‘নবুওত প্রাপ্তির পূর্বে মক্কায় একবার লোকমুখে কথা রটলো যে,আল্লাহ মুহাম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর প্রেরিত পুরুষ (রসুল) হিসেবে পাঠাবেন এবং পূর্ব ও পশ্চিমে যা কিছু আছে তার সবই ঐ ব্যক্তির আয়ত্তে আসবে। সে-সময় মক্কার চল্লিশজন নারী গর্ভবতী ছিল। গর্ভবতী প্রত্যেক মাতা চাচ্ছিলেন তার শিশু সেই প্রেরিত পুরুষ হোক। তাই শিশুর জন্মের সাথে সাথে প্রত্যেক মাতা তার পুত্রের নাম মুহাম্মদ রাখলেন।’

আমার মন্তব্য- আমার মন্তব্য হলো.. যদি এটা সত্য হয়েও থাকে যে মক্কায় সেই সময় এ কথা প্রচলিত ছিলো যে মুহাম্মদ নামের কোনো দূত আসবে তাহলে মক্কাবাসী কি সেই সময় এতোটাই গাধা ছিলো যে তারা ভেবেছিলো মুহাম্মদ নাম রাখলেই সে আল্লার দূত হয়ে যাবে? কেউ কারো ছেলের নাম শাহরুখ খান রাখলেই সে যদি ভাবে তার ছেলে শাহরুখ খানা হয়ে যাবে এমনটা ভাবা এটার প্রমাণ যে তার মাথায় এক চামচও লবন নেই । আমি মনে করিনা যে মক্কাবাসী সেই সময় এতোটাও গাধা ছিলো।)

আলী দুস্তি- উপরের উক্তি যে বাস্তবতাবর্জিত তা বলা নিষ্প্রয়োজন। সে সময় মক্কায় কেউই এই ধরনের গুজব শুনেনি অথবা কেউই মুহাম্মদ নামে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ সমন্ধে অবহিত ছিল না। (মুহাম্মদের জন্মের আগেই বা নবী হওয়ার আগেই যদি সবাই জানতো যে মুহাম্মদ নামের কোনো নবী আসছে তাহলে এ ব্যপারে সবার আগে মুহাম্মদের অভিভাবক আবু তালিবের জানা কথা। কিন্তু সে এ-ব্যাপারে কিছু না জেনেই অথবা কিছু না শুনেই এবং ইসলামে দীক্ষিত না হয়েই মারা যান। নবুওতের স্বীকৃতি পাবার পূর্বে মুহাম্মদ কোনোদিনও ভাবতে পারেননি যে তিনি নবি হতে যাচ্ছেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় সুরা ইউনুসের ১৬ আয়াতে : ‘বলো, আল্লাহর তেমন ইচ্ছা থাকলে আমি তোমাদের কাছে এটি পড়তাম না, আর তিনি তোমাদেরকে এ-বিষয়ে জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মধ্যে দীর্ঘকাল কাটিয়ে দিলাম, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?’ (১০:১৬)। মক্কার ইতিহাসে কখনো জানা যায় না যে,৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র চল্লিশজন নারী সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন এবং প্রত্যেকেই তার শিশুর নাম রাখেন মুহাম্মদ। এটা কী বিশ্বাসযোগ্য যে,সে-সময় মুহাম্মদ তাঁর সমবয়সী ও তার নামের একই নামধারী চল্লিশজন খেলার সাথী পেয়েছিলেন?

আমার মন্তব্য- যদি এমন হতো তাহলে কল্পনা করুন তো, কেমন হতো মুহাম্মদের শৈশব? কল্পনা করুন মুহাম্মদ ক্রিকেট খেলছে আর বলছে “এই মুহাম্মদ… তুই ব্যাটিং করবি। আর মুহাম্মদ তুই কিপার থাকবি। আর মুহাম্মদ তুই আম্পায়ার থাকবি। আর মুহাম্মদ গেলো কৈ? এই মুহাম্মদ… যা তো, মুহাম্মদ কে ডেকে নিয়ে আই। মুহাম্মদ বোলিং করবে আর বাকি মুহাম্মদরা ফিল্ডিং করবে 😂😂😂। যাইহোক…. আসল কথায় ফিরে আসি।

আলী দুস্তি- ঐতিহাসিক ওয়াকেদি নবির জন্ম সম্পর্কে তাবারি থেকে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। ওয়াকেদি লিখেছেন : ‘মাতৃগর্ভ থেকে বের হয়েই মুহাম্মদ উচ্চারণ করেন-‘আল্লাহ সবার ঊর্ধ্বে’। এক মাস বয়সে মুহাম্মদ হামাগুড়ি দিতে থাকেন, দুই মাসে দাঁড়িয়ে যান,তিন মাসে হাঁটতে শুরু করেন, চার মাসে দৌঁড়াতে পারেনএবং নয় মাস বয়সে তীর ছুঁড়তে থাকেন।’উল্লেখ্য মির্জা জানি কাশানি (মৃত্যু ১২৬৮ হিজরি বা ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর ‘নাকাত আল-কাফ’৩ বইয়েও বাহাই মতাদর্শের প্রতিষ্ঠাতা ‘সাইয়েদ আলি মুহাম্মদ সিরাজি’ সম্পর্কেও একই ধরনের বক্তব্য লিখেছেন। যদিও বাহাই সম্প্রদায় পরে এই ধরনের প্রচারণাকে চাপা দেবার প্রয়াস চালায়। মির্জা কাশানির বক্তব্য অনুযায়ী সাইয়েদ আলি জন্মের সাথে সাথে নাকি উচ্চারণ করেছিলেন : ‘আল্লাহই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।’যা-হোক ওয়াকেদি যেমনটা বলেছেন মক্কায় এধরনের অলৌকিক কিছু হয়ে থাকলে তখনকার পৌত্তলিক মক্কাবাসীরা নিশ্চয়ই জানতেন এবং মুহাম্মদের কাছে শুরুতেই মাথা নত করতেন।
উপরে উল্লেখিত উদাহরণ থেকে সে-সময়কার মুসলমানদের মধ্যে অবাস্তব এবং ইতিহাসের নামে কাল্পনিক কাহিনী রচনার প্রবণতা দেখা যায়।

আমার মন্তব্য- মুহাম্মদের নামে মুসলিমরা অনেক ভিত্তিহীন অবাস্তব ও প্রমাণহীন অনেক অলৌকিক কল্প কাহীনী বলে থাকেন। আমি জানিনা মুসলিমরা এই মিথ্যাচার গুলো কেনো করেণ। অবশ্য এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে অলৌকিক জাদুকরী গল্পগুলো ধর্মের বিক্রি বাড়াতে অনবদ্য সাহায্য করে। অলৌকিক গল্প ধর্মের কাটতি বাড়ায়। আর এজন্যই এই মিথ্যা গল্প গুলোর জন্ম। কিন্তু একবার ঠান্ডা মাথায় প্রেক্টিক্যাল ভাবে চিন্তা করুন তো….

বর্তমানে আমাদের এই জ্ঞান বিজ্ঞানে আধুনিক যুগেও মানুষের মাঝে অন্ধ বিশ্বাস আর অলৌকিকতার কদর আকাশ ছোয়া। অনেক শিক্ষিত শিক্ষিত মানুষ আজো আমাদের দেশে হুজুরের পানিপড়া খায়, মাজারে যায়, ল্যাংটা বাবার দরবারে কালো মোরোগ দেয় আরো কতো কি অন্ধবিশ্বাস আর অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে। গত বছর আমাদের এখানে একটা ঘটনা ঘটে। একটি নীম গাছ থেকে কালো পানি বের হোচ্ছিলো যেটা খতে মিষ্টি ছিলো। এই অদ্ভুত কান্ড, তেতো নিম গাছে মিষ্টি পানি দেখে মানুষজন সেই নীম গাছে মান্নত করতে শুরু করলো। মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে, ঝাড় ফুক করে সে এক হুলস্থুল অবস্থা। মানুষ বোতলে করে সেই নীম গাছ থেকে বের হওয়া পানি নিয়ে গিয়ে খেতে শুরু করলো। বলে রোগ মুক্তি হয়। মজার বিষয় হলো কোনো কোনো লোক এও দাবী করলো যে ঐ পানি খেয়ে নাকি তার দীর্ঘদিনের রোগ ভালো হয়ে গেছে। তাই দেখে অনেকেই বলতে লাগলো তারাও সুফল পাচ্ছে। কিন্তু পরে বন বিভাগ থেকে একজন গবেষক এসে পরিক্ষা করে বললেন যে ঐ নীম গাছে এক বিরল ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ ধরেছে। আর যে পানি ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে সেটা ঔ ব্যাক্টেরিয়ার কারনে গাছটা ভিতর থেকে গাছ পচে সেই পচা পানি বের হোচ্ছে । আর ঐ ব্যাক্টেরিয়া গাছের রসের সাথে ফারমেন্টেড হওয়ার কারণে কারণে পানিটা মিষ্টি লাগছে। এবং এটা খাওয়া সাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তখন ঘটনে বেরিয়ে আসতে লাগলো যে অনেকেই নাকি ঐ ওই পানি খেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত। এর আগে মানুষ হুতাসেই বিভিন্ন গাল গল্প বানিয়ে বানিয়ে বলে বেড়াচ্ছিলো।

চিন্তা করুন… এই ২০০০ সালে এসেও মানুষ এতোটা অন্ধবিশবাসী। অথচ মুমিনদের দাবী সেই ১৪শ বছর আগে নাকি মুহাম্মদ একের পর এক আলৌকিক কাহিনী দেখিয়েছে যেগুলোকে তারা বলে মুজেজা । অথচ সেই মুজেজা দেখেও নাকি কেউ মুহাম্মদ কে নবী বলে মানেনি। এটা কি বিশ্বাস করা যায়? আমরা কোরানে এবং হাদিছে বার বার দেখি যে মুহাম্মদের আশেপাসের মানুষ গুলো মুহাম্মদ কে নবী বলে মানতে বারংবার অস্বীকার করছে, তার কথা বিশ্বাস করছে না, তাকে মিথ্যাবাদী বলছে। মুহাম্মদ ১৪শ বছর আগে অশিক্ষিত যাযাবর, যারা জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে শত শত মাইল দূরে তাদেরকেও সে যে নবী সেটা বিশ্বাস করাতে বার বার অক্ষম হয়েছিলো যার প্রমাণ কোরানেও আছে । এর কারণ মুহাম্মদ তাদের অধিকাংশের কাছেই তার নবুয়াতির উপযুক্ত কোনো প্রমাণই হাজির করতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তীতে মুহাম্মদ মারা যাবার পর মুসলিমরা বিভিন্ন কল্প কাহিনী বানাতে থাকে তার নামে, মুহাম্মদ কে নবী বলে প্রমাণ করার জন্য। যেগুলোর আসলে কোনোই ভিত্তি নেই। আর মজার বিষয় হলো মুহাম্মদ সারাজীবনে যতো মানুষকে মুসলমান বানাতে পারেনি, মুহাম্মদ মারা যাবার পর তার সাহাবী ও চ্যালারা তার নামে বিভিন্ন মিথ্যা গল্প কাহিনী বলে বলে মুহাম্মদের চাইতে অধিক গুণ বেশী মানুষকে মুসলিম বানিয়েছে। আমাকে এবং এখানের পাঠকদের অধিকাংশই সবিকার করবেন যে আপনাদেরো ছোটবেলা থেকে ধর্মের প্রতি আসক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন নবী, সাহাবীদের অলৌকিক গল্প দিয়ে। যেগুলর আদৌ কোন ভিত্তি নেই।

Print Friendly, PDF & Email

Mdh Mahadi