Atheist in Bangladesh

আমাদের পতন হবে আমাদের হাতেই

আয়াতুল্লাহ খোমেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে মার্কিন বিমান হামলায় ইরাকের বাগদাদে মেরে ফেলা হয়েছে! এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ লাগলে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে জানেন? দুইদেশের কাছেই নিউক্লিয়ার ওয়েপন আছে(যদিও ইরান দাবী করে তাদের কাছে নিউক্লিয়ার অস্ত্র নাই!)।

ওইদিকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া অং সাং সু চি মায়ানমারে রোহিংগা গণহত্যায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণহত্যার পক্ষে!

চীন উইঘুরদের নির্যাতনের জন্য বানিয়েছে কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প।

সিরিয়ায়-ইয়েমেনে চলছে সৌদি আরব আর মিত্রদের বোমা হামলা, শিশুরা মরছে না খেতে পেয়ে আর দুর্ভিক্ষে।

মোদীর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে সমগ্র ভারত জুড়ে। কাশ্মীর, আসামে আগ্রাসন অব্যাহত আছে এখনো।

পাকিস্তানে অব্যাহত আছে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রাম।

আমাদের সমুদ্র সীমায় আছে ভারতীয় রাডার বসাবার চুক্তি, সুন্দরবনের পাশে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি এবং সীমান্ত হত্যার হাজারের বেশি নজির।

আপনাকে জানিয়ে রাখি মোদীর সাথে হাসিনার চুক্তি, হাসিনার সাথে সৌদি আরবের চুক্তি, সৌদি আরবের সাথে মোদীর চুক্তি, এগুলোর মধ্যেও আছে উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বন্দ্ব, মাঝখানে উড়ো খবর পাওয়া গিয়েছিল জাপান রোবট সৈন্য বানাচ্ছে! সেইসব রোবট সৈন্য কেমন যুদ্ধ করবে বলে আপনার ধারণা?

জ্বি, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। টেক্নিক্যালি এই যুদ্ধ দুনিয়ার বুকে সবচেয়ে ভয়াবহ হবে, কারণ প্রতিটি হত্যাকাণ্ড বলেন, গণহত্যা বলেন, সামরিক আগ্রাসন বলেন- সবখানে সাফার করবে সাধারণ মানুষ। বন্ধ করে দেয়া হবে ফোন এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট পরিসেবা। যেটা আমরা কাশ্মীরে দেখেছি, ট্রায়াল ভার্সন দেখেছি বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও।

আমরা ক্রিমিনালদের ক্ষমতায় বসিয়েছি, জুলিয়ান এসাঞ্জকে জেলে ঢুকতে বাধ্য করার পরেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। শহীদুল আলমকে মার খেতে দেখার পরেও ডিক্টেটরদের গণতন্ত্রের ‘মানসকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত করেছি, অশিক্ষিত জনগণ আর ধর্মান্ধ জনগণ দিয়ে একটা দেশে দেশে বিরাট ‘ তৌহিদী জনগোষ্ঠী’ বানিয়েছি যারা ধর্ম গেলো গেলো রব তুলে রামুর বৌদ্ধবিহারে এদেশে হামলা করে আবার সেই বৌদ্ধধর্মের প্রতিনিধি হিসেবেই মায়ানমারে গণহত্যা চালায় রোহিংগা জনগোষ্ঠীর ওপর, জয় শ্রীরাম বলে পিটায় মুসলিমদের আবার নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর বলে খুন করে নাস্তিকদের।

এটম বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার এটম বোমার ফিল্ড টেস্টের পর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হিন্দুধর্মের গীতা থেকে পাঠ করেছিলেন একটি লাইন, যার অর্থ- আমিই মৃত্যু! যেমনটা বলেছিলেন আলফ্রেড নোবেল, ডিনামাইট আবিষ্কারের পর এর ধ্বংসাত্মক শক্তি দেখে তিনি বলেছিলেন- আমি এটা মানুষের প্রয়োজনে আবিষ্কার করেছিলাম, মানুষ মারতে না!

Dear world, welcome to the dress rehearsal of the third world war and the beginning of the end of this civilization!
আমাদের পতন হবে আমাদের হাতেই, ভীনগ্রহ থেকে এলিয়েন এসে মেরে যাবেনা। কারণ প্রকৃতি শেষ পর্যন্ত কোনো হিসেবই বাকি রাখেনা! বুঝলেন?

Print Friendly, PDF & Email

Faysal Hossain Onik