Atheist in Bangladesh

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত চলে গিয়ে বেঁচেই গেছে

নুসরাতের হয়তো নেইলপালিশ বা মেহেদি পরার শখ ছিল। অথচ সে জানতোই না,এই রং মুছে যাওয়ার আগেই তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে।

শরীরের আশি ভাগ পুড়ে যাওয়ার পরেও নুসরাত শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করতে চেয়েছিল, করেছে ও। বলেছিল,আমার যা হয় হোক,ওদের যেন বিচার হয়।

নুসরাতের ওই পাদুটো হয়তো এই সমাজ, আমাদের অবরুদ্ধ বিবেককে আরো একবার লাথি দিয়ে গেছে। তাতে অবশ্য আমাদের মরিচীকায় ধরা মনুষত্ববোধে খানিকটা কম্পন তুলবে,আবার ভুলেও যাবো। যেমনটা ভুলে গেছি তনু হত্যার কথা।

নুসরাত চলে গিয়ে বেঁচেই গেছে। কিন্তু যাওয়ার আগে,দেখে গেছে,এই সমাজ কতটা অন্ধকারে। কতটা পচে গেছে, যেখানে ধর্ষককে বাঁচাতে মিছিল হয়।

চলে যাওয়ার আগে, আরো একবার দেখিয়ে দিয়ে গেছে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস লাগে। যেই সাহসটা এই সমাজের মানুষ নামক দুপেয়ো প্রানীদের নেই। এমনকি কোন ধর্ষিতার পাশে দাঁড়ানোর সাহসটাও নেই।

আমরা হয়তো নুসরাতকে ভুলে যাবো। কিন্তু বাংলাদেশের লাখ লাখ নিরাপত্তাহীন নারীর জন্য নুসরাত হয়ে থাকবে এক সাহসের নাম। মৃত্যুতেই হয়তো মুক্তি মিলেছে নুসরাতের। হয়তো নুসরাতের এই মুক্তিই কাউকে না কাউকে সাহস যোগাবে।

আসেন আমরা নুসরাতের পুড়ে যাওয়া আত্মাটার জন্য হলেও রাস্তায় নামি। মানুষ নামের ওই পিশাচগুলোর নির্মম মৃত্যুর জন্য আন্দোলন করি। তাতে অন্তত নুসরাতের আত্মাটা একটু হলেও শান্তি পাবে।
#Justice_for_Nusrat

Print Friendly, PDF & Email

Jawad Hossain Nirjhor