Atheist in Bangladesh

ইসলামী আসল চেহারা

এমডি মাহাদি হাসান: যখনই ইসলামের আসল চেহারাটি বেরিয়ে পড়ে সেটাকে ধামাচাপা দিতে কাফেরদের চক্রান্ত বলে নিজের গায়ের অপরাধকে কাফেরদের গায়ে চাপিয়ে দিয়ে ইসলাম নিজেকে রক্ষা করে। ১৪০০ বছর আগের নবী কর্তৃক সমস্ত জেনোসাইডকে নানারকম কাল্পনিক, মিথ্যা বিশ্বাসঘাতকতা অভিযোগে হালাল ও যৌক্তিক করা হয়েছে। কিন্তু দুনিয়াতে যত বড় অভিযোগই তোলা হোক না কেন, গণহত্যার জন্য কোন অযুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়। গণহত্যায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ, নিরপরাধী মানুষকে গণহারে, গণঅভিযোগে হত্যা করা হয়।
বিশ্বাসঘাতকতা কখনো গোটা সম্প্রদায়, গোষ্ঠি, গোত্র করতে পারে না। নিরহ নারী, শিশুরা রাজনীতি বুঝে না। অথচ তারাও শিকার হয় নির্মম গণহত্যার শিকার। যে কারণে গণহত্যার কোন সাফাই চলে না। অথচ দেখা যায় ইসলামের নবী ইহুদী গোত্রগুলোর প্রতি উচ্ছেদ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গণহত্যা (যেমন বনু কুরাইযা), লুটপাটের মত ঘটনাগুলোর পিছনে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, গোপন বিশ্বাসঘাতকতা, চুক্তি বা সন্ধি ভঙ্গের মত অভিযোগ দাঁড়া করানো হয়। কোন সুস্থ, বিবেক সম্পন্ন মানুষ এসব অভিযোগের কারণে গোটা একটা সম্প্রদায়কে হত্যা করাকে সমর্থন করতে পারে না। তাই মুসলিমদের মধ্যে যারা ইসলামের নবীর এহেন কর্মকান্ডকে জেনেও অবিচল থাকেন বিশ্বাসে এবং সাফাই গান হত্যাযজ্ঞের জন্য তারা শুধু মানসিকভাবেই অসুস্থ না, মানুষের কাতারেই তারা পড়েন না!
শুধুমাত্র লিঙ্গের অগ্রভাবে কেশের অবস্থান দেখেই সাবালক বিবেচনা করে বারো-তেরো বছরের শিশুদেরকেও ইসলাম গণহত্যার জন্য হালাল করেছে। বাকীদের দাসে পরিণত করা হয়েছে। নারীদের করা হয়েছে মুসলিমদের জন্য যৌনদাসী। এইসব যুদ্ধবন্দী নারীদের মহান ইসলামী যুদ্ধের রসদ কেনার জন্য বিক্রিও করে দেয়া হতো গরু-ছাগলের মত। নারী বেচাকেনার সেই পয়সায় মহান রাব্বুল আলামিনের শান্তির ধর্ম ইসলাম কায়েমের যুদ্ধের ঘোড়া, তরোয়ালসহ সমস্ত যুদ্ধ রসদ কেনা হতো। এসব কোন নাস্তিকের লেখা বই পড়ে জানার দরকার নেই। 
আমার মত কোন নাস্তিকের লেখা পোস্ট পড়েও বিশ্বাস করার দরকার নেই। খুব মন দিয়ে, ধৈর্য ধরে হাদিস খন্ডগুলো, ইবনে হিশাম, ইবনে ইসহাক লিখিত বইগুলো পড়লেই চলবে। কুরআনের বাংলা তাফসির পড়ে আয়াতগুলো সম্পর্কে জানা যাবে কেন কি উদ্দেশ্যে এবং আয়াতগুলোতে আসলে কি বুঝানো হচ্ছে তা পড়েও একজন মুসলিম ইসলাম সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা লাভ করতে পারে। পিস টিভি দেখে ইসলামকে জানা যাবে না। সিলেক্টটিভ কিছু হাদিস পড়েও ইসলামকে জানা যাবে না। আর এই না জানার কারণে বিন লাদেনের মত একজন ঠান্ডা মাথার খুনি হয়ে পড়েন মুসলিমদের কাছে হিরো! কারণ মুসলিমদের মানসে প্রেরণ করা হয় ইসলাম শুধু আক্রান্ত হলেই আক্রমণ করে নিজেকে বাঁচাতে। আর সে শিশু, নারী, বৃদ্ধদেরকে ক্ষমা করে।
সে শুধু অপরাধীদেরকেই শায়েস্তা করে। যে জন্য দুনিয়ার যত সন্ত্রাসী ইসলামবাদী দল বা গ্রুপ আছে তাদের জন্য মুসলিমদের মনের ভেতর থাকে গভীর অনুরাগ। মুখে অসমর্থন করলেও মনে মনে তাদের প্রতি থাকে গভীর সমর্থন। কিন্তু পাকিস্তানের মত বেতিক্রম ঘটনায় যেখানে স্কুলের অবোধ শিশুদের ইসলাম হত্যা করে ফেলে সেটাকে ধাপাচাপা দেয়া একটু কঠিন। সাধারণ মানুষকে তাই বলা হচ্ছে এই তালেবান সহি তালেবান নয়। মানে হচ্ছে আফগান তালেবানরা সহি! এই আফগান তালেবানরা মানবতা বিরোধী হেন কর্ম নেই যা করেনি। আফগানস্থান দখল করার সময় তাদের পথের কাঁটা বলে যাকেই মনে হয়েছে সেটাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে দিতে সময় লাগেনি। তবে পাকিস্তানের তালেবানকে তার বর্তমান ইমেজ থেকে উদ্ধার কারার সব রকম ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
অলরেডি এই কাজের জন্য “হিন্দুদের” উপর দোষ চাপানো হয়েছে। বলা হচ্ছে এটা ইসলামের শত্রু র’-এর কাজ! সব দেশেই প্রথম আলো, নয়া দিগন্ত, দিগন্ত টিভির মত মিডিয়া আছে। তারা ইসলামকে ডিফেন্স করতে কোমড় বেধে নামবে। যেখানে আমেরিকা বা ভারতের নাম জড়ানো হবে সেখানে মিত্র পেতে ইসলামের বিলম্ব হয় না। এই ঘটনায়ও সব দোষ বিধর্মীদের উপর চাপিয়ে (বাংলাদেশ হলে নাস্তিক ব্লগারদের উপর দোষ ফেলা হতো নাকি?) ইসলাম তার সন্ত্রাসী চেহারাটাকে লুকাতে চেষ্ট করছে। ইসলাম যতদিন সাধারণ মানুষের কাছে তার আসল চেহারা নিয়ে প্রকাশ না পাবে ততদিন মুসলিমদের জীবনে পাকিস্তানের মত অনুরূপ ঘটনা বার বার ঘটে যাবে। পাকিস্তান এই ইসলামকেই স্বাগতম জানিয়েছিল তাদের দেশে। আজ পাকিস্তানের শিশুদের রক্ত পান করেই সে বেঁচেবর্তে আছে!
পাকিস্তানীদের এখনো শিক্ষা হয়নি জানা কথা। তারাও এসব সহি ইসলাম নেহি থা বলে গা ভাসাচ্ছে। মানে তারাও আসল ইসলামকে জানে না। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান থেকে ভেঙ্গে আলাদা হয়েছিল কিন্তু ইসলামীকরণকে ছাড়তে পারেনি। তারাও যেহেতু মুসলমান তাই তারাও ইসলামকে না জেনেই কোনটা “সহি ইসলাম” সেই রায় দিয়ে বসে অম্লাণ বদনে! হিযবুর তাহরির বা এরকম ইসলামী সংগঠনে যে সব শিক্ষিত ছেলেরা যোগ দিয়েছে তাদের পক্ষে পাকিস্তানের স্কুলের মত ঘটনা ঘটানো খুবই সম্ভব। হিযবুর তাহরির বা ইসলামী দলগুলোকে যেভাবে এখানে প্রশ্রয় বা আড়াল করা হয় তাতে যে কোনদিন “সহি ইসলাম” থলের থেকে লাফিয়ে পড়ে সর্বনাশ করে ফেলতে পারে। তখন কিন্তু মাতম করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না…।
Print Friendly, PDF & Email

Mdh Mahadi