Atheist in Bangladesh

কোরানে বিগ ব্যাং

যে তত্ত্বটি আমাদের এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পেরেছে, তা হচ্ছে বিগ ব্যাং। ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডুইন হাবল প্রমান করে দেখালেন যে, আমাদের এই মহাবিশ্ব ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। মহাবিশ্বের এই সম্প্রসারনের কথা কুরানেও উল্লেখ আছে। হাবলের গবেষনার ফলাফল কুরানের সাথে হুবহু মিলে গেলো! যাহোক, এই মহাবিশ্ব যেহেতু সম্প্রসারিত হচ্ছে, মহাবিশ্বের প্রতিটি জ্যোতিষ্ক যেহেতু একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যাচ্ছে, সেহেতু নিশ্চয়ই এই মহাবিশ্বের সবকিছু একসময় একত্রিত ছিল কোন এক বিন্দুতে? হ্যা, এই ধারনা থেকেই বিগ ব্যাং এর সুত্রপাত হয়। এরপর ধীরে ধীরেই বিগ ব্যাং তত্ত্বটি জোড়ালো হতে থাকে। ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানীরা Cosmic Microwave Background Radiation (CMB)  এর অস্তিত্ত্ব আবিষ্কার করতে সমর্থ হলেন যা বিগ ব্যাং এর একটি জ্বলন্ত প্রমাণ!

খুবই আশ্চর্যজনকভাবে, এই বিগ ব্যাং এর ইঙ্গিতও কুরানে আগেই দেয়া হয়েছে। খুব অবাক হচ্ছেন তাই না? কি করে সম্ভব একটা ১৪০০ বছরের পুরোনো গ্রন্থে এতো এডভান্সড সায়েন্টিফিক টার্মগুলো সম্পর্কে বলে দেয়া? হ্যা, প্রথম প্রথম অবাক আমিও হয়েছিলাম। কিন্তু আসলে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করলেন, তিনি তো সৃষ্টির পদ্ধতি জানবেনই; তাই কুরানে এ সম্পর্কে উল্লেখ থাকলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তো, আসুন দেখে নিই বিগ ব্যাং সম্পর্কে কুরানে কি কি বলা হয়েছে।

সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৩০

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

আয়াতটি লক্ষ্য করুন, এখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে যে, একসময় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিলো অর্থাৎ এরা একত্রিত অবস্থায় ছিলো। এটি বিগ ব্যাং এর আদি বিন্দু অর্থাৎ সিঙ্গুলারিটির প্রতি নির্দেশ করছে। আমাদের মহাবিশ্বের সবকিছুই বিগ ব্যাং এর পুর্ব মুহুর্তে একটি বিন্দুতে একত্রিত অবস্থায় ছিলো।

সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ১১

অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।

এই আয়াতে বিগ ব্যাং এর আরেকটি গুরুত্বপুর্ন দিক উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিগ ব্যাং এর পর এই মহাবিশ্বের সবকিছুই ছিলো ধোঁয়ার মত। পরে তা ঠান্ডা হয়ে গ্রহ নক্ষত্র তৈরি হয়েছে।

দেখুন, কত স্পষ্ট করে বিগ ব্যাং সম্পর্কে বলে দেয়া হয়েছে কুরানে। কুরানের কথার সত্যতা বিজ্ঞানীরা পাচ্ছেন এবং আরও পাবেন ইনশাল্লাহ। সকল নাস্তিকদের বলছি, এখনও সময় আছে, কুফরি ছেড়ে সত্যের পথে আসুন। সত্য দেখেও না দেখার ভান করে অগ্রাহ্য করবেন না, এতে আপনারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছেন। আল্লাহ আপনাদের বুঝার তৌফিক দান করুন।

আমরা এতক্ষন কুরানের মোজেজা সম্পর্কে জানলাম। জানলাম কুরানে বিগ ব্যাং এর উল্লেখ থাকার কথা। এবার জানবো সত্যটা। কুরানীয় বিজ্ঞানকে একটু যাচাই করার পালা এবার। কুরানে কি আসলেই বিগ ব্যাং আছে? চলুন উত্তরটা জানতে চেষ্টা করি।

আমরা প্রথমেই উক্ত বিগ ব্যাং আয়াতদ্বয়কে একটু বিশ্লেষন করে দেখি।

সুরা আম্বিয়ার আয়াত ৩০ এ বলা হয়েছে,

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

এই আয়াতের ভিন্ন একটি অনুবাদ হচ্ছে,

অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম; এবং জীবন্ত সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম; তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না?

সোজা কথায়, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছিল একত্রিত অবস্থায়। আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে আলাদা করে দিলেন। এটাই বিগ ব্যাং।

আচ্ছা, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে আলাদা করা কিভাবে বিগ ব্যাং হয়???
বিগ ব্যাং এর সময় তো পৃথিবীর জন্মই হয়নি! বিগ ব্যাং হয়েছে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে, আর পৃথিবীর বয়স মাত্র ৪.৫ বিলিয়ন বছর। অর্থাৎ, বিগ ব্যাং এর ৯.৩ বিলিয়ন বছর পরে এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে! উইকিপিডিয়ার বিগ ব্যাং পেজটা ঘুরে আসুন, ওখানে বিস্তারিত সব পাবেনই, সেই সাথে একটা টাইমলাইন দেয়া আছে বিগ ব্যাং সম্পর্কিত, বিগ ব্যাং কবে হলো, বিগ ব্যাং এর কত পরে পৃথিবীর সৃষ্টি হলো,  এরপর ধাপে ধাপে কিভাবে আধুনিক যুগে আমরা পৌছলাম তার টাইমলাইন।

bigbang-timeline
বিগ ব্যাং এর ৯.৩ বিলিয়ন বছর পরে এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে

তো, এই আয়াতে কিভাবে বিগ ব্যাং খুজে পেলেন মুমিন ভাইয়েরা? বিজ্ঞান বলে বিগ ব্যাং এর সময় পৃথিবী ছিলো না, কিন্তু আল্লাহ পৃথিবী আর আকাশ আলাদা করলেন! এইটা কি ভাই বিগ ব্যাং এর সহিহ ইসলামী ভার্শন?? লুল…
এই আয়াতে বিগ ব্যাং তো নেই ই, বরং তৎকালীন সময়ের একটা প্রচলিত ভুল ধারনা ফুটে উঠেছে এখানে। সেই সময় সবাই ভাবতেন যে, আকাশ হল ছাদের মত, আর পৃথিবী বিছানা… এই ছাদ আর বিছানা অর্থাৎ আকাশ আর পৃথিবী একসময় জোড়া লাগানো অবস্থায় ছিল। পরে তা আলাদা হয়ে গেছে। এই কথার সত্যতা উক্ত আয়াতেই লুকিয়ে আছে। আয়াতটির শুরুতেই বলা হয়েছে, “কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে…” এর উত্তরে কি আসে? উত্তরটা আসে এমন, “হ্যা, কাফেররা ভেবে দেখে…” কি ঠিক বললাম? অর্থাৎ, ব্যাপারটা আগেই কাফেররা জানতো। আমরা দৈনন্দিন অনেক ব্যাপারেই এরকম উক্তি ব্যবহার করি। যেমন, আপনি গুরুত্বপুর্ন কোন কাজে ব্যস্ত, আপনার বন্ধু এসে আজাইরা প্যাচাল শুরু করলো। তখন আপনি কি বলবেন? বলবেন, “তুমি কি দেখছো না আমি কাজ করছি?” উত্তর আসবে, “হ্যা, আমি দেখছি”… ঠিক, এমন করেই কুরানে আরবের তৎকালীন জানা একটি বিষয় তুলে ধরতেই আল্লাহ বলেছেন, “কাফেররা কি ভেবে দেখে না?”

এবার চলুন সুরা ফুসসিলাত এর ১১ নাম্বার আয়াতের দিকে নজর দেই।

অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।

উক্ত আয়াত অনুযায়ী, আকাশ ছিলো ধোঁয়ার কুন্ডলী। এরপর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীকে নিজ নিজ অবস্থানে আসতে বললেন। আচ্ছা, এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন পর্যায়ে তা ধোয়ার মত ছিলো বলুন তো? সিঙ্গুলারিটিতে সবকিছু ছিলো শক্তিরুপে, আর বিগ ব্যাং এর অনেক পরে পদার্থ গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। আর, গ্রহ নক্ষত্রগুলো গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে তা কি ধোয়ার মত কিংবা বায়বীয় অবস্থায় ছিলো? অবশ্যই না, গ্রহ নক্ষত্রগুলো গঠিত হওয়ার আগে সেগুলো ছিলো প্লাজমা অবস্থায়। ধোয়া বলেন আর বায়বীয় অবস্থা বলেন, কোনটার সাথেই সাদৃশ্য নেই প্লাজমা অবস্থার।
এখানে, আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করুন, আল্লাহ ধোয়ার কুন্ডলীরুপী আকাশ আর পৃথিবীকে আসতে বললেন ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। অর্থাৎ, আকাশ যখন ধোয়ার কুন্ডলী, সেই সময়ই পৃথিবীর অস্তিত্ত্ব ছিলো! নিঃসন্দেহে একটি বড় বৈজ্ঞানিক ভুল। আমরা যদি গ্রহ নক্ষত্র গঠিত হওয়ার আগের প্লাজমা অবস্থাকেও ধোয়া ধরে নিই, তাহলেও এই ভুলটি এড়ানো যাবে না। আকাশের সব গ্রহ নক্ষত্র যখন ধোয়ার কুন্ডলী (প্লাজমা) অবস্থায় আছে, সেই একই সময় পৃথিবী কিভাবে গঠিত হলো?? কেননা আল্লাহ সেসময় ধুম্রকুঞ্জরুপী আকাশ আর পৃথিবীকে আদেশ করেছেন। উইনিভার্সের সব জ্যোতিষ্ক যখন উত্তপ্ত অবস্থায় ধোয়া/বায়বীয়/প্লাজমা ছিলো, সেসময় কি পৃথিবী অস্তিত্ত্বে আসতে পারে? এর চেয়ে অপবিজ্ঞান আর কি হতে পারে?

আমরা এতক্ষত আলোচনা করছিলাম সুরা ফুসসিলাত এর ১১ নাম্বার আয়াতটি নিয়ে। কিন্তু যদি সুরা ফুসসিলাত এর ৯ থেকে ১২ নম্বর আয়াত পর্যন্ত তুলে ধরি, তাহলেই কুরানীয় বিজ্ঞানীদের মুখোশ একদম খুলে যাবে। চলুন দেখি, সুরা ফুসলিতাদের উক্ত আয়াতসমুহে কি কি আছে।

সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ৯-১২

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুদিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুদিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

দেখুন এখানে কি বলা হয়েছে। যদিও আল্লাহ কুরানের আরেক জায়গায় বলেছেন যে তিনি “হও” বললেই সাথে সাথে তা হয়ে যায়, তারপরও তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করতে ২ দিন সময় নিলেন। যাহোক, সেদিকে যাচ্ছি না। আল্লাহ ২ দিনে পৃথিবী সৃষ্টি কমপ্লিট করলেন, এরপর পরবর্তী ২ দিনে আল্লাহ পৃথিবীতে পর্বত স্থাপন করলেন ও খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন। এভাবে ৪ দিন সময় অতিবাহিত হলো। এরপর… এরপর… আল্লাহ আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিলো ধুম্রকুঞ্জ। এবং এই  ধুম্রকুঞ্জরুপী আকাশ ও পৃথিবীকে আদেশও করলেন! অর্থাৎ, পৃথিবী তৈরি হলো, তাতে পাহাড় পর্বত স্থাপিত হলো, এমনকি গাছপালা খাদ্যশস্য পর্যন্ত উৎপন্ন হলো, সেই সময়ও আকাশ তৈরির কাজে হাত দেয়া হয়নি, তা ধোঁয়ার কুন্ডলী অবস্থায় ছিলো। আল্লাহ আগে পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তারপর আকাশ? এটি কি একটি বৈজ্ঞানিক ভুল নয়? নিঃসন্দেহেই এটি একটি বিরাট বড় ভুল। কুরানে বিগ ব্যাং খুঁজতে গিয়ে তো দেখি এখন বড় রকমের ভুল বেরিয়ে আসছে!

সুরা বাকারার ২৯ নাম্বার আয়াতেও বলা হয়েছে আগে পৃথিবী তারপর আকাশ তৈরি করা হয়েছে।

তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।

আল্লাহ সুরা ক্বাফ এর ৩৮ নম্বর আয়াতে বলেন,

আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।

এই আয়াতে বলা হলো, উইনিভার্সের সবকিছুই মাত্র ৬ দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিগ ব্যাং নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা অহেতুক বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের হিসেব কষে বেড়ায়… আসলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে বিলিয়ন বছর লাগে নাই, লেগেছে মাত্র ৬ দিন। কুরানের এই আয়াতটা দেখালেই বিজ্ঞানীদের অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান হয়ে যেতো। কোরান যে একটা মারাত্মক বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ, তার প্রমাণ পেলেন তো?

আবার, আল্লাহ সুরা হুদ এর ৭ নাম্বার আয়াতে বললেন,

তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে…

আবারও ঘোষনা দিলেন আসমান জমিন ৬ দিনে তৈরি করেছেন। তবে, আরও একটা ঐশ্বরিক তথ্য দিয়ে রাখলেন, আসমান জমিন সৃষ্টির আগেই তার আরশ পানিতে ভাসতে ছিলো!
সুবহানাল্লাহ! সবকিছু সৃষ্টি হওয়ার আগেই পানি ছিলো?? বিজ্ঞানীরা নিশ্চয়ই এতক্ষনে কচু গাছ খুঁজতেছেন ঝুলে পড়ার জন্যে। হেহে…

কোরান লেখকের সীমাবদ্ধতাঃ

কুরান লেখকের বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতাটুকু লক্ষ্য করা উচিত। কুরানীয় বিজ্ঞান বলতে বুঝায় শুধু আসমান-জমিন কিংবা চন্দ্র সুর্য ও তারকা… অর্থাৎ, একজন মানুষ পৃথিবী থেকে যতটুকু দেখতে পায়, ঠিক ততটুকুই কুরানীয় বিজ্ঞানের দৌড়… এর এক চুলও বেশি নয়। কিন্তু কেন? চিন্তা করার সময় এসেছে। পৃথিবীটা পুরো মহাবিশের তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র, এতই ক্ষুদ্র যে আমাদের অনেকেরই কল্পনার বাইরে। পৃথিবীর সকল সাগর মহাসাগরের তুলনায় একফোটা পানি যতটুকু ক্ষুদ্র, আমাদের পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় ততটুকুই কিংবা তার চেয়েও অধিক ক্ষুদ্র। আর, কুরানীয় বিজ্ঞান শুধুমাত্র এই পৃথিবীকে ঘিরেই। পৃথিবী কেন্দ্রিক। একজন সাধারন মানুষ পৃথিবী থেকে যা যা লক্ষ্য করেন, ঠিক তাই তাই কুরানে আছে, এর বেশি নয়… কুরানে কি এমন কোন কথা আছে যা সাধারন মানুষের জানার কথা নয়? অবশ্যই নেই… কুরানটা একটা মানুষের চাতুর্যপুর্ন কথাবার্তা আর কিছু অবৈজ্ঞানিক রুপকথার সংমিশ্রন…

আবার, আজকের আলোচ্য আয়াতগুলো লক্ষ্য করুন, বার বার বলা হলো আকাশ ও পৃথিবী সম্পর্কে। আচ্ছা, আকাশ বলতে কি বুঝায়? আকাশ তো আসলে আমাদের দৃষ্টিভ্রম ছাড়া কিছুই নয়। আমরা আমাদের মাথার উপরে নীলাভ সাদা ছাদের মত যা দেখি, তা আসলে শুধুই শুন্যস্থান… স্পেস… চাঁদে যান, সেখানে বায়ুমন্ডল না থাকার কারনে আকাশ নামক ছাদ দেখবেন না। আর, আকাশ বলতে যদি শুন্যস্থানে ভাসমান গ্রহ নক্ষত্র ইত্যাদি সকল জ্যোতিষ্ককে বুঝে থাকেন, তাহলে সেই হিসেবে এই পৃথিবীও আকাশের অংশই। তাই না? কুরান লেখক কেন আলাদা করে বলবেন আকাশ ও পৃথিবী? পৃথিবী কি আকাশের অংশ নয়?

কোরানের লেখক আকাশকে ভাবতেন আমাদের ছাদ, ঠিক যেন একটা কঠিন সমতল বস্তু…

কোরআন অনুযায়ীঃ
# আকাশ আমাদের ছাদ (21:32)
# আগে পৃথিবী, তারপর আকাশ সৃষ্টি হয়েছে (2:29)
# আকাশের কোন ফাটল নাই, আলহামদুলিল্লাহ (67:3)
# আকাশের খন্ড মাথায় ভেঙ্গে পড়তে পারে, সাবধান! (34:9)
# আকাশের দরজা আছে, তয় গেইটপাশ লাগে কিন্তু  😉  (15:14)
# ইশ্রাফিল শিঙ্গায় ফু দিলেই আকাশ ভেঙ্গে তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে (78:19)
# আকাশে উঠার সিড়িঁ থাকা সম্ভব (6:35)
# আকাশ পিলার ছাড়াই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে (13:2)
# আকাশ ও পৃথিবীর বিস্তৃতি একই (57:21, 3:133)
# জমিন ৭ টা, আসমানও ৭ টা! পারফেক্ট রুপকথা! (65:12)
# আকাশকে কাগজপত্রের মত গুটিয়ে নেয়া সম্ভব (21:104)
# আকাশ নিশ্ছিদ্র, তাতে কোন ছিদ্র নেই (50:6)
# ব্লা ব্লা… … এখানে মাত্র কয়েকটা উল্লেখ করলাম… এরকম আরও বহু উদ্ভট কথাবার্তা রয়েছে কোরআনে

আকাশ সম্পর্কে এমনই সব উদ্ভট ও হাস্যকর ধারনা পোষন করেন কোরানের লেখক। আর, এই কুরানকেই কাগজী লেবুর মত চিপে চিপে ইসলামবাজরা তা থেকে বিজ্ঞানের নির্যাস বের করেন। যাহোক, আজকের পোস্ট ছিলো বিগ ব্যাং নিয়ে, তাই আলোচনা অন্যদিকে গড়াবে না।

Print Friendly, PDF & Email

Mdh Mahadi