Atheist in Bangladesh

সমকালীন ভাবনা

টাইম মেগাজিনের গত সংখ্যায় হেন্স রোজলিং এর লেখা ফেক্টফুলনেস বইটার উপর বিল গেট্সের ব্যাপক প্রশংসা নিয়ে একটা সাক্ষাত্কার ছাপা হয়েছে। তো বিল গেট্স বইটির রেফারেন্স দিয়ে এক জায়গায় বলেছে- মানুষের দৈনিক আয় যখন ২ ডলার থেকে বেড়ে ৪ চার ডলার হয় তখন( খাবার কেনার বাহিরে) তারা জুতা বা সাইকেল কেনার আগ্রহ দেখায়। মানুষের এই প্রবণতা আপনি কঙ্গোর কিনসাসাতে যেমন দেখবেন, তেমনই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও দেখবেন। এটা মানুষের কমন প্রবনতা। মানুষকে জানার ভাল উপায় হল- সে কোন দেশে থাকে তা না, বরং কিভাবে থাকে ( জীবন যাত্রার কৌশল) তার উপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশের কুৎসিত ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বর্বরতা গুলোতেও জায়গা বা দেশের জন্য সৃষ্টি হয়নি, বরং এই স্যোসিও-ইকোনোমিকস এ বিদেশের সভ্য লোকদের ধরে এনে বাস করতে দেন- তারাও আমাদের মতই আচরন করবে। আবার আমাদেরকে বিদেশের উন্নত স্যোসিও-ইকোনোমিকসের মধ্যে বাস করতে দেন, আমরাও সভ্যদের মত আচরন করব। হেন্সের বই ফ্যাক্টফুলনেস বা হারারীর বই হোমো ডিয়াসসহ অনেকেই দেখিয়েছেন – আমরা আমাদের সমস্যা গুলো নিয়ে পড়ে থাকি বলে আমাদের অভাবনীয় উন্নতিটা সহজে দেখছিনা।

২। মাঝ নদীতে নৌকায় তুফান লাগলে মানুষ যে মাত্রার টেন্সে থাকে, আমরা রাত-দিন সে মাত্রার টেন্সে থাকি বলে আমরা বাংলাদেশের উন্নতিটা উপলদ্ধি করছিনা।
সারা বিশ্বের ফিজিক্যাল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়াতে পৃথিবীর সকল প্রান্তেই এই উন্নতিটা ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা অবধারিত ।

এমনিতেই দুর্বিক্ষ, রোগবালাই ও যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে মানুষ মুক্তির ধারপ্রান্তে। ধর্ম নিয়ে যে উন্মাদনাটা দেখছেন তা আগামী ১০/১৫ বছরে বিলুপ্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা। ধর্মের একটা বৈশিষ্ট্য হল -ধার্মিক মানুষ যখন হঠাৎ আধুনিক শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সচ্ছল হয়ে উঠে তখন সে আরো বেশী করে ধর্মকে আকড়ে ধরে। হঠাৎ কেউ স্বচ্ছল হলে উদ্বৃত্ত টাকা দান করার সহজ রাস্তা খোজে, তাই চিন্তা ভাবনা না করেই ধর্মীয় রাস্তায় ব্যায় করে ধর্মকে প্রমোট করে ফেলে। পরের প্রজন্ম এ কাজটা করেনা, তারা প্রডাক্টিভ কাজে ব্যায় করে, তখন থেকেই ধর্ম হেরে যেতে থাকে।

ধর্ম ও বাস্তবতা উপলব্ধি করার টাইমফ্রেমটা পার করলে দ্রুতই বাস্তব জীবনের সাথে ধর্ম আপোস করা শুরু করবে। যার যার প্রফেশন ঠিক রেখে ধর্মের নিজ্স্ব একটা ব্যখ্যা বের করে ধর্মটাকে টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ ঠিক এই স্টেজেই অবস্খান করছে। যে কোন সংঘটন ভেঙ্গে যাবার প্রধান লক্ষনই হল অসংখ্য মতভেদ তৈরী হওয়া ও যার যার মত করে ব্যাখ্যা তৈরী করা।

৩। দ্রুতই বাস্তবতার সাথে তাল মিলাতে না পেরে খেই হারিয়ে ধর্মকে নিউট্রালে ফেলে দিয়ে শুধু উৎসব গুলো টিকিয়ে রাখবে। আর এটাই হল ধর্মের চুড়ান্ত মৃত্যু। যে অর্থনীতিতে বাপের সম্পদ ছেলে ভোগ করে, সেখানে ননক্রিয়েটিভ ও ননপ্রডাক্টিভ প্রজন্ম গড়ে উঠে, তাদের দ্বারাই সমাজ ধ্বংস হয়। কিন্তু আশার কথা বাংলাদেশ বিদেশের মত নিজস্ব ও স্ট্রাগলিং অর্থনৈতিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরী হচ্ছে। অচিরেই হলি আর্টিজানের নির্বাশদের মত ছেলেরা পড়াশুনার পাশাপাশি বাধ্য হয়ে কাজ করার চাপে পড়ে জেহাদী ভুত চলে যাবে।

তখন রাজনীতির নষ্টামীও বন্ধ হয়ে যাবে। টেকনোলজীর ঠেলায় পড়ে অর্থব রাজনীতিবিদেরা নির্জীব হয়ে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email

Faysal Hossain Onik