Atheist in Bangladesh

আল্লাহ এবং তাহার আরশ

আল্লাহ এবং তার আরশ কত উপরে কোথায় এ ব্যাপারে একটি উত্তম হাদীস আছে:

ইমাম আহমেদ (র) আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (সা) এর সঙ্গে বাতহা নামক স্থানে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময়ে একখণ্ড মেঘ অতিক্রম করলে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তোমরা কি জানো এগুলো কী ? আমরা বললাম, মেঘমালা। তিনি বললেন, সাদা মেঘ বলতে পারো।আমরা বললাম সাদা মেঘ. তিনি বললেন: আনানও বলতে পারো। আমরা বললাম ওয়াল আনান। তারপর বললেন, আমরা নীরব থাকলাম। তারপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো যে, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে দূরত্ব কত টুকু? আব্বাস (রা) বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসূলই সম্মক অবহিত। তিনি বললেন: উভয়ের মাঝে পাঁচশো বছরের দূরত্ব। এক আকাশ থেকে আরেক আকাশ পর্যন্ত পাঁচশো বছরের দূরত্ব, প্রত্যেকটি আকাশ পাঁচশো বছরের সমান পুরু এবং সপ্তম আকাশের উপরে একটি সমুদ্র আছে: যার উপর ও নীচের মধ্যে ঠিক তত টুকু দূরত্ব যতটুকু দূরত্ব আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে। তারপর তার উপরে আছে আটটি পাহাড়ী মেষ , যাদের হাঁটু ও ক্ষুরের মাঝে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্বের সমান দূরত্ব। সেগুলোর উপর হলো আল্লাহর আরশ. যার নীচ ও উপরের মধ্যে ততটুকু দূরত্ব যতটুকু দূরত্ব আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে। আল্লাহ হলেন, তারও উপরে। কিন্তু বনী আদমের কোন আমলই তাঁর কাছে গোপন থাকে না.

আমরা তাহলে গাণিতিক নিয়মে সমাধান করতে পারি এ রকম:

পৃথিবী থেকে আল্লাহর অবস্থানের দূরত্ব = সাত আকাশের দূরত্ব + সাত আকাশের পুরুত্ব + সপ্তম আকাশের সমুদ্রের গভীরতা + আটটি পাহাড়ী মেষের উচ্চতা + আরশের উচ্চতা
= (৭ x ৫০০ বছর) + (৭ x ৫০০ বছর) + (৫০০ বছর) + (৫ x ৮ x ৫০০ বছর) + (৫০০ বছর)
= ২৮০০০ বছর

অপর একটি হাদীসে বলা আছে যে এই দূরত্ব হলো পাখির গতির দূরত্ব।

(সূত্র: আল্লামা হাফিজ ইবনে কাছীর প্রণীত আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবের প্রথম খন্ড ১১৯ পৃষ্ঠা)

আমার জানা মতে ফালকোন পাখিই পৃথিবীর দ্রুততম পাখি যার সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৩৮৪ কি:মি:.

তাহলে আমরা পাই:

পৃথিবী থেকে আল্লাহর অবস্থানের দূরত্ব = ২৮০০০ x ৩৮৪ x 8760 কি:মি: = ৯৪, ১৮৭, ৫২০, ০০০ কি:মি:

আমাদের সৌর জগতের ব্যাসার্ধ্য হচ্ছে ১৪৩, ৭৩০, ০০০, ০০০ কি:মি: অর্থাৎ আল্লাহর অবস্থান সৌরজগতের মধ্যেই। বিজ্ঞানীদের পাঠানো ভয়েজার মহাকাশ যান সৌরজগৎ ছেড়ে এর বাইরে চলে গেছে, তাহলে ঐ মহাকাশ যান আল্লাহর অবস্থান ছেড়ে আরও দূরে চলে গেছে।

ওই ভয়েজার মহাকাশ যান যখন আল্লাহর কানের পাশ দিয়ে চলে যায়, তখন আল্লাহ ওটা দেখেছেন এবং মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতি দেখে মিটি মিটি হেসেছেন – নাকি একটু ভীত হয়েছেন এই ভেবে যে মানুষ আর বোধ হয় তাকে মান্য করবে না, তার উপাসনা পাওয়ার দিন প্রায় শেষ হয়ে এলো। এখন অন্য কোন গ্রহে গিয়ে নতুন করে অন্য কোন প্রজাতির প্রাণী  বানাতে হবে যারা তার উপাসনা করবে।

Print Friendly, PDF & Email

Mdh Mahadi