Atheist in Bangladesh

হাফসার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে মুহাম্মদ তাকে তালাক দিতেও দ্বিধা করেন নি

এমডি মাহাদি হাসান: মুহাম্মদের যে ক’জন স্ত্রী ইতিহাসে বিশেষভাবে খ্যাত তাঁদের মধ্যে একজন হলেন হাফসা। তিনি ছিলেন দ্বিতীয় খলিফা এবং মুহাম্মদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সাহাবী ওমর বিন খাত্তাবের বিধবা কন্যা। হাফসার স্বামী, খানায়িস বদর যুদ্ধে মারা গেলে মুহাম্মদ তাঁকে বিয়ে করেন। হাফসা ছিলেন ব্যতিক্রমী নারীদের একজন। তিনি অসাধারণ সাহস ও প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যা মুহাম্মদের অপছন্দ ছিলো। ফলে মুহাম্মদের সঙ্গে তাঁর মাঝে মাঝেই দ্বন্দ ও কলহ হতো, কখনো কখনো কলহ তো তীব্র সংঘাতের রূপ পরিগ্রহ করতো। অন্ততঃ একবার সংঘাত এতো চরমে উঠেছিলো যে মুহাম্মদ মেজাজ হারিয়ে তাঁকে তালাক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। অবশ্য হাফসাকে তালাক দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে অনেক মতভেদ রয়েছে। মতভেদ শুধু ঐতিহাসিকদের মধ্যেই নয়, মতভেদ রয়েছে মুসলিম সমাজের সর্বস্তরেও। একটা মত হলো, মুহাম্মদ সত্যিই হাফসাকে তালাক দিয়েছিলেন, আর একটা মত হলো, তালাক দেওয়ার প্রচারটা নেহাতই একটা গুজব ছিলো। দুটি প্রধান হাদিস বলছে যে, মুহাম্মদ তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন বলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছিলো একবার। তখন দ্বিতীয় খলিফা ওমর ফারুক বিন খাত্তাব সরাসরি মুহাম্মদের কাছে গিয়ে জানতে চান আসল ঘটনাটা কী। মুহাম্মদ নাকি তখন জানান যে তিনি তালাক দেন নি। এই মতটির পক্ষে কয়েকটি হাদিস আছে। সে রকম একটি হাদিসের বয়ানের অংশ বিশেষ এ রকমঃ “… যখন রাসূলে পাক [সাঃ] তাঁর স্ত্রীদের নিকট হতে সাময়িকভাবে পৃথক হয়ে গেলেন। তখন আমি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম যে, লোকগণ হাতে কঙ্কর নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। তারা পরষ্পর আলোচনা করতেছিল যে, রাসূলে পাক [সাঃ] তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক প্রদান করেছেন। ঘটনাটি ছিল তাঁদের উপর পর্দার আদেশ নাযিল হওয়ার পূর্বেকার। ওমর [রাঃ] বললেন, প্রকৃত ঘটনাটা কি তা আজই জেনে নিব; … আয়েশা বিনতে আবুবকর [রাঃ] এবং হাফছাহ বিনতে ওমর [রাঃ] এ দুজন হুযুর [সাঃ] – এর অন্যান্য পত্নীদের উপর তাদের প্রাধান্য বিস্তার করে আসতেছিল । আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ [সাঃ] ! আপনি কি তাদের তালাক দিয়েছেন ? তিনি বললেন, না।” (মুসলিম শরীফ, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ঢাকা, হাঃ নং – ৩৩৫৬, পৃঃ – ৫৫৪) তিরমিযী শরীফেও অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। মুসলিম শরীফ ও তিরমিযী শরিফ প্রধান সহিহ হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এই হাদিস দুটিতে উল্লেখ রয়েছে যে তালাক দেওয়ার প্রচারটা নেহাতই গুজব মাত্র, তাই এই মতটিই [অর্থাৎ মুহাম্মদ তাঁর স্ত্রী হাফসাকে তালাক দেন নি] সত্যি ভাবলে ভুল হবে। কারণ, অন্য কয়েকটি সহিহ হাদিস সাক্ষ্য দেয় যে হাফসাকে তালাক দেওয়ার ঘটনাটি মোটেই গুজব নয়, মুহাম্মদ সত্যি সত্যিই তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন। যে হাদিসগুলি সত্য ও সঠিক বলে মুসলিম সমাজে অনুমোদিত ও স্বীকৃত সেগুলিকে সহিহ হাদিস বলা হয়। মুহাম্মদ হাফসাকে সত্যিই তালাক দিয়েছিলেন এ কথা যে সব হাদিসে ব্যক্ত করা হয়েছে তার তালিকা দিয়েছেন প্রখ্যাত তফসিরকার ইবনে কাথির। কাথির লিখেছেন যে মুহাম্মদ হাফসাকে সত্যিই একবার তালাক দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ওমরের অনুরোধে মুহাম্মদ সে তালাক ফিরিয়েও নিয়েছিলেন। কোরানের ৩৩/৫২ নং আয়াতের তফসীরে এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন – “আর হযরত হাফসা [রাঃ] সম্পর্কীয় ঘটনাটি সুনানে আবি দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ প্রভৃতি হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হাফিজ আবূ ইয়ালা [র:] বর্ণনা করেছেন যে, হযরত ইবনে উমার [রাঃ] বলেছেনঃ হযরত উমার [রাঃ] হযরত হাফসা [রাঃ] – এর নিকট এমন অবস্থায় প্রবেশ করেন যে, তিনি কাঁদছিলেন। তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? সম্ভবতঃ রাসুলুল্লাহ [সঃ] তোমাকে তালাক দিয়েছেন। নিশ্চয় তিনি তোমাকে একবার তালাক দিয়েছিলেন। অতঃপর আমারই কারণে তিনি তোমার ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার যদি তিনি তোমাকে তালাক দিয়ে থাকেন তবে আমি কখনও তোমার সাথে কথা বলবো না।” (দ্রঃ- ইবনে কাথিরের তফসির, ১৫শ খন্ড, পৃ – ৮৩৮) ইবনে কাথির ৬৫/১ নং আয়াতের তফসিরেও এই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। কাথির এই তফসিরে বলেন যে মুহাম্মদ হাফসাকে তালাক দিয়ে তাঁর গৃহ থেকে তৎক্ষণাৎ বের করে দেন যেটা মস্তবড়ো ভুল ছিলো। ফলে আল্লাহ তৎক্ষণাৎ ৬৫/১ নং আয়াতটি তথা প্রত্যাদেশটি পাঠিয়ে হাফসাকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন এবং মুহাম্মদ তখন হাফসাকে ফিরিয়ে নেন। এই আয়াতটিতে বলা হয়েছে যে, “হে নবী [সঃ] তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর তবে তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ রেখো, ইদ্দতের হিসেব রেখো এবং তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করো; তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ হতে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়।” উক্ত তফসিরে এই আয়াতের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনে কাথির বলেছেন মুহাম্মদ হাফসাকে তালাক দিয়েও তা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন আল্লাহর নির্দেশে, ওমরের অনুরোধে নয়। তিনি লিখেছেন – “হযরত আনাস [রাঃ] হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ [সঃ] হযরত হাফসা [রাঃ] – কে তালাক দেন। তখন তিনি পিতা-মাতার বাড়িতে চলে যান। ঐ সময় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ [সঃ] – কে বলা হয়ঃ তাঁকে [হযরত হাফসা (রাঃ) – কে] ফিরিয়ে নাও। সে খুব বেশী রোযাব্রত পালনকারিণী এবং অধিক নামায আদায়কারিণী। সে দুনিয়াতেও তোমার স্ত্রী এবং জান্নাতেও তোমার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যান্য সনদেও এসেছে যে রাসূলুল্লাহ[সঃ] হযরত হাফসা[রাঃ] – কে তালাক দিয়েছিলেন, অতঃপর রুযূ করেছিলেন বা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।” (দ্রঃ- ইবনে কাথিরের তফসির, ১৭শ খন্ড, পৃ – ৫৩২, ৫৩৩)
এ কথা ঠিক যে মুসলিম সমাজে পরের তিনটি হাদিস গ্রন্থ অপেক্ষা প্রথম দুটি হাদিস বেশী সমাদৃত। তাই মনে হতে পারে যে হাফসাকে তালাক দেওয়ার ঘটনাটি গুজব ছাড়া সত্যি হতে পারে না। কিন্তু পরের তিনটি হাদিসকেও ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না কারণ এই হাদিসগুলিও সহিহ হাদিস বলে মুসলিম সমাজে স্বীকৃত ও মান্যতাপ্রাপ্ত। তাছাড়া মুহাম্মদের হাফসাকে তালাক দেওয়ার ঘটনাকে অধিক বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে কোরানের ৬৫/১ নং আয়াতটি যে আয়াতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে পত্নীদের ইদ্দতের কথা খেয়ালে রেখে তালাক দিতে হবে। এ কথাটির অর্থ হলো পত্নীদের তাদের মাসিক ঋতুর সময় তালাক দেওয়া যাবে না। কিন্তু কোরানের তফসিরকারদের মতে মুহাম্মদ হাফসাকে ঋতুকালীন অবস্থাতাতেই তালাক দিয়েছিলেন। ফলে আল্লাহ সেই তালাক বাতিল করতঃ উক্ত আয়াত (৬৫/১) পাঠিয়ে মুহাম্মদকে নির্দেশ দেয় হাফসাকে ফিরিয়ে নেওয়ার। মুহাম্মদ যে সত্যিই ঋতুবতী হাফসাকে তালাক দিয়েছিলেন এবং সে কারণে তাঁকে হাফসাকে ফিরিয়ে নিতে আল্লাহর নির্দেশ এসেছিলো তার প্রমাণ রয়েছে মুহাম্মদ প্রদত্ত একটি বাখ্যা ও আদেশের মধ্যে। এই ঘটনাটির বর্ণনা রয়েছে ৬৫/১-এর তফসিরেই। তফসিরের সেই বিবরণটি এরূপঃ “হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি তার স্ত্রীকে মাসিক ঋতুর অবস্থায় তালাক দেন। হজরত উমার(রাঃ) ঘটনাটি রাসুলূল্লাহ(সঃ)-র নিকট বর্ণনা করেন। রাসুলূল্লাহ(সঃ) অসন্তুষ্ট হন এবং বলেনঃ ‘সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয় এবং ঋতু থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীরূপেই রেখে দেয়। অতঃপর পুনরায় ঋতুবতী হওয়ার পর যখন পবিত্র হবে তখন ইচ্ছা হলে এই পবিত্র অবস্থায় সহবাস করার পূর্বেই তালাক দিবে। এটাই ঐ ইদ্দত যার হুকুম আল্লাহ তা’আলা দিয়েছেন।(দ্রঃ – ঐ) হাদিস ও কোরানের এই প্রমাণগুলি ছাড়াও মুহাম্মদের দাম্পত্য জীবন কীরূপ ছিলো, বিশেষ করে মুহাম্মদ ও হাফসার মধ্যেকার দাম্পত্যজীবন কীরূপ ছিলো তার পর্যালোচনা করলেও এটাই প্রতীয়মান হয় যে মুহাম্মদ কর্তৃক হাফসাকে তালাক দেওয়ার ঘটনাটা মোটেই গুজব ছিলো না।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সূর্যের মতোই সত্যি ঘটনা যে, মুহাম্মদের দাম্পত্যজীবনে মোটেই শান্তি ও সুখ ছিলো না। তাঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীদের মাঝে মাঝেই নানা প্রশ্নে কলহ-বিবাদ লেগেই থাকতো। কলহ একবার এতোই প্রকট হয় যে, তিনি এক মাস ব্যাপী স্ত্রীদের সংস্রব থেকে দূরে সরে ছিলেন। আপাত দৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি যে আজগুবি নয় তার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে কোরান।কোরানের ৩৩/২৮ নং আয়াতটি সে সাক্ষ্য দিচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো তার তফসিরে গিরিশচন্দ্র সেন লিখেছেন – “মদীনা প্রস্থানের নবম বৎসরে হজরত স্বীয় পত্নীগণের হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছিলেন ও শপথ করিয়াছিলেন যে, একমাস কাল তাঁহাদের সঙ্গ করিবেন না, কারণ এই যে, তাঁহারা তাঁহার সাধ্যাতীত বস্ত্রাদি প্রার্থনা করিতেছিলেন।”
মুহাম্মদের স্ত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে আয়েষা ও হাফসার সঙ্গে তাঁর ঝগড়া যে একবার তাঁদের উভয় পক্ষের সহিষ্ণুতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল সে কথা অস্বীকার করা বা আড়াল করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। কারণ, কোরান ও হাদিসের মধ্যে সে তুমুল ঝগড়ার প্রমাণ রয়েছে। এরূপ ঝগড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি আয়াত ও কয়েকটি হাদিস উপরে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো কিছু আয়াত ও হাদিস আছে যেখানে মুহাম্মদের দাম্পত্য জীবনে কলহ ও অশান্তির কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেই সব অশান্তি বা ঝগড়া-বিবাদগুলি এখানে আলোচনা করার অবকাশ নেই, আবশ্যকতাও বিশেষ নেই। এখানে যেটা আলোচনা করা জরুরী সেটা হলো কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাফসা ও মুহাম্মদের মধ্যে লাগাম ছাড়া ঝগড়া হয়েছিলো যার ফলে মুহাম্মদ হাফসাকে তালাক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনাটি ঘটেছিলো হাফসার দাসী মারিয়াকে কেন্দ্র করে। মুসলিমদের কাছে এমন কোনো ঘটনা অস্বাভাবিক বা অসম্ভব মনে হতে পারে, কিন্তু ঘটনাটি যে সত্যি ঘটেছিলো তা সংশয়াতীত। ঘটনাটি বর্ণনা করা যাক মিশরের শাসনকর্তা মুকাউকিস একবার মহাম্মদকে উপহার হিসাবে কিছু সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন। সেই সামগ্রীর মধ্যে এই সুন্দরী খৃীষ্টান রমণী তথা মারিয়াও ছিলেন। মুহাম্মদ তাঁকে তাঁর দাসী হিসেবে রেখে দেন এবং হাফসার সেবায় নিয়োগ করেন। মুহাম্মদের অনেক উপপত্নী ছিলো। তাদের মধ্যে মারিয়া ছিলেন একজন যাঁকে তিনি পরে বিয়ে করেছিলেন বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিক জানিয়েছেন। মুহাম্মদ যে তাঁর হারেমে অনেকগুলি পত্নী একত্র করেছিলেন তাতো সর্বজন সুবিদিত। তিনি পত্নীদের মধ্যে কবে কার সঙ্গে যাপন করবেন তার পালা বন্টন করে দিয়েছিলেন। যে দিন মুহাম্মদ ও হাফসার মধ্যে তুমুল কলহ হয় সেদিন ছিলো হাফসার পালা। সন্ধ্যায় মুহাম্মদ হাফসার ঘরে গিয়ে দেখেন হাফসা ঘরে নেই। তিনি তখন তাঁর পিতৃগৃহে গিয়েছিলেন। হাফসা কেনো পিতৃগৃহ গিয়েছিলেন তা নিয়েও বিতর্ক আছে। একটি মত হলো তিনি তাঁর নিজের প্রয়োজনে গিয়েছিলেন, আর একট মত হলো মুহাম্মদই হাফসাকে ছল করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সে যাই হোক, হাফসার অবর্তমানে মুহাম্মদ মারিয়াকে হাফসার ঘরে ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে যান। ঠিক সে সময়েই হাফসা পিতৃগৃহ থেকে ফিরে আসেন এবং মুহাম্মদ ও মারিয়াকে সঙ্গমরত অবস্থায় দেখে ফেলেন।এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা তাঁর কাছে ছিলো কল্পনাতীত। মুহাম্মদও ভাবতে পারেন নি যে হাফসা এত শীঘ্র ফিরে আসতে পারেন। ফলে হাফসাকে দেখে তিনি ভূত দেখার মতো চমকে ওঠেন এবং তৎক্ষণাৎ মারিয়াকে ছেড়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ান। হাফসা ছিলেন প্রখর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী, তার উপর মুহাম্মদের অতি ঘনিষ্ঠ ও মক্কার কোরেশদের মধ্যেকার একজন প্রবল প্রভাবশালী ব্যক্তি ওমর বিন খাত্তাবের মেয়ে। স্বভাবতঃই তাঁর ব্যক্তিত্ব, মেজাজ, অহঙ্কার ও আত্মগৌরব ছিলো মুহাম্মদের অন্যান্য স্ত্রীদের তুলনায় অনেক বেশী। তিনি তাই মুহাম্মদ ও মারিয়াকে তাঁরই দিনে তাঁরই বিছানায় সঙ্গমরত অবস্থায় দেখে নিজেকে স্থির ও সংযত রাখতে পারেন নি। ঐ দৃশ্য দেখা মাত্রই তিনি মুহাম্মদকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করতে শুরু করেন। মুহাম্মদকে হাত ধরে হ্যাচকা টানে টেনে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বলেন, হে আল্লাহ্‌র নবী ! আমার ঘরে, আমার দিনে এবং আমার শয্যাতেই এটা করতে পারলেন? হাফসার তখন প্রবল মাথা গরম অবস্থা, মুহাম্মদকে ভর্ৎসনা করার ভাষা যেমন ছিলো রূঢ়, তেমনি তাঁর গলার স্বরও ছিলো একেবারে সপ্তমে। ফলে মুহাম্মদ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এটা ভেবে যে, তাঁর এই কেলেঙ্কারী সর্বসমক্ষে ফাঁস হয়ে যাবে। হাফসাকে তিনি তাই করজোড়ে অনুনয়-বিনয় করতে শুরু করেন এবং আস্তে আস্তে কথা বলার জন্যে অথবা চুপ করার জন্যে অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই হাফসাকে থামানো যাচ্ছিলো না দেখে তিনি হাফসার কাছে দ্রুতই ভুল স্বীকার করে নেন। তাতেও হাফসা সন্তুষ্ট না হলে তখন তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে জীবনে আর কোনোদিন মারিয়াকে স্পর্শ করবেন না। হাফসা তখন কিছুটা শান্ত হন। সেই অবস্থায় মুহাম্মদ হাফসাকে বলেন যে তাঁকেও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে সে কোনো দিন কারো কাছে এ ঘটনাটা প্রকাশ করবেন না। হাফসা তখন শর্তসাপেক্ষে মুহাম্মদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। তিনি বলেন যে মুহাম্মদ যদি তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করেন তবেই এই ঘটনাটা তিনি কাউকে জানাবেন না। হাফসা কিন্তু তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন নি। মারিয়াকে মুহাম্মদের স্ত্রীরা প্রায় সকলেই ভীষণ হিংসা করতেন, কারণ মারিয়া ছিলেন অতি সুন্দরী এবং তাঁর প্রতি মুহাম্মদ তাঁকে সবচাইতে বেশী ভালবাসতেন। তাই মারিয়াকে আর কোনো দিন মুহাম্মদ স্পর্শ করবে না এমন শপথটা তাঁর কাছে ছিল বিরাট একটি যুদ্ধ জয়ের মতো প্রবল আনন্দ দায়ক ঘটনা। সেই আনন্দে তিনি এতই উদ্বেল হয়ে পড়েন যে মুহূর্তের মধ্যেই মুহাম্মদকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা বিস্মৃত হয়ে পড়েন। তাই মুহাম্মদ তাঁর ঘর ছেড়ে যেতে না যেতেই ছুটে চলে যান আয়েশার কাছে। গিয়ে সমস্ত ঘটনাটি সবিস্তারে তিনি আয়েশাকে জানিয়ে দেন। সবটা শুনে আয়েশাও শিশুর মতো আনন্দ নেচেউঠেছিলেন। তারপর তাঁরা সবাই মিলে আনন্দটা ভাগাভাগি করে নিতে অন্যান্য স্ত্রীদেরও খবরটা জানিয়ে দেন। এতে মুহাম্মদ হাফসা ও আয়েশার প্রতি প্রচন্ড রুষ্ট হন ।

হাফসার ঘরে হাফসার দিনে মারিয়ার সঙ্গে মুহাম্মদের সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার কুৎসিত ও নোংরা ঘটনাটা কোনো কাল্পনিক ঘটনা নয়, বা মুহাম্মদের চরিত্রকে মলিন করার উদ্দেশ্যে রচনা করা কোনো বানানো গল্পও নয় । এই ঘটনাটি যে সত্য তার বহু প্রমাণ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া যায় । এমনকি কোরানের তফসিরকারগণও এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছেন । কোরানের তফসির থেকে ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করার আগে মুসলিম বংশোদ্ভূত একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আনোয়ার হেকমতের দেওয়া তথ্যের উপর চোখ রাখা যাক । আনোয়ার লিখেছেন – “One day when Muhammad came to Hafsa’s house he found that the woman was out visiting her father. While still there, his Coptic concubine, Marya, arrived; she had been presented to Muhammad by the governor of Alexandria some time ago. The Prophet, evidently overcome with desire, could not resist the temptation of making love with the pretty-faced young woman right then and there. It is recorded that her “skin was white and tender.” In the middle of their love-making the door opened and in came his wife Hafsa. “He was caught by one of his wives, Hafsa, the proud daughter of his companion, ‘Umar, having intercourse with Mariya in Hafsa’s own room and her own day.” [ Vide: Women and the Koran, page- 71,72] উক্ত উদ্ধৃতিটি হেকমতের নিজের নয়, তিনি অন্য একটি গ্রন্থ থেকে এটা তুলে দিয়েছেন । সেই সূত্রটি হলোঃ Al -Tirmidhi, Al – Shahih al – Tirmidhi, 2 vols. (Cairo, 1292 A.H.), p. 213 এবার কোরানের তফসিরে চোখ রাখা যাক ।
যে আয়াতগুলির তফসিরে মুহাম্মদ ও মারিয়া বৃত্তান্তের উল্লেখ আছে সেগুলি হলো তাহরিম সুরার প্রথম চারটি আয়াত অর্থাৎ ৬৬/১-৪ নং আয়াত । আয়াতগুলি মুহাম্মদ আবৃত্তি করেন মারিয়াকে স্পর্শ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কিছুদিন পর । আয়াতগুলির ভাষ্য হলো – “হে নবী ! আল্লাহ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন, তুমি তোমাদের স্ত্রীদের খুশী করার জন্য তা অবৈধ করছো কেন ? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময় । যখন নবী তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিল, পরে তার সেই স্ত্রী তা অন্যকে বলে দিয়েছিল, এবং আল্লাহ্‌ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন । নবী এই বিষয়ে তার স্ত্রীকে কিছু বললো এবং কিছু বললো না, নবী যখন তা তাকে জানালো, তখন সে বললো – কে আপনাকে এ কথা জানিয়েছে ? নবী বললো – আমাকে জানিয়েছেন তিনি – যিনি সর্বজ্ঞানী, সবই অবগত । তোমাদের দু জনের হৃদয় অন্যায়-প্রবণ হয়েছে, এখন যদি তোমরা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করো আল্লাহ্‌ তোমাদের ক্ষমা করবেন । কিন্তু তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরের পোষকতা করো, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ও জিব্রাইল এবং সৎকর্মশীল বিশ্বাসীগণ তার সাহায্যকারী ; উপরন্তু ফেরেস্তাগণও তার সাহায্যকারী হবে । যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে, তবে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে সম্ভবত তাকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্ত্রী দেবে, যারা হবে – আত্মসমর্পণকারী, বিশ্বাসী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, রোজা পালনকারী এবং বিধবা ও কুমারী ।” ( সুরা তাহরিম, ৬৬/১-৫) । এই আয়াতগুলির তফসিরে মুহাম্মদ-মারিয়া কান্ডের কথা যে সত্যি তা স্বীকার করা হয়েছে । কেন ও কোন প্রেক্ষাপটে মুহাম্মদ আয়াতগুলি আবৃত্তি করেছিলেন তা প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করেছেন তফসিরকার ইবনে কাথির । তিনি লিখেছেন – “তাফসীরে ইবনে জারীরে রয়েছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ ‘এ দুজন স্ত্রী কে ছিলেন ?’ উত্তরে হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ ‘তাঁরা হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ) । উম্মে ইব্রাহিম কিবতিয়্যাহ (রাঃ)-কে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয় । হযরত হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে তার পালার দিনে হযরত রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত মারিয়া কিবতিয়্যাহ (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হন । এতে হযরত হাফসা (রাঃ) দুঃখিতা হন যে, তাঁর পালার দিনে তাঁরই ঘরে ও তাঁরই বিছানায় তিনি মারিয়া (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হলেন ! হযরত রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলে ফেলেনঃ ‘আমি তাকে আমার কাছে হারাম করে নিলাম । তুমি এই ঘটনা কারো কাছে বর্ণনা করো না ।’ এতদসত্বেও হযরত হাফসা (রাঃ) ঘটনাটি হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে প্রকাশ করে দেন । আল্লাহ তা’আলা এই খবর স্বীয় নবী (রাঃ) –কে জানিয়ে দেন এবং এই আয়াতগুলি নাযিল করেন । নবী (রাঃ) কাফ্ফারা আদায় করে স্বীয় কসম ভেঙ্গে দেন এবং ঐ দাসীর সঙ্গে মিলিত হন ।” [দ্রঃ ইবনে কাথিরের তফসীর, ১৭শ’ খন্ড, পৃ – ৫৫৮] হাফসাকে মিথ্যা অজুহাতে তাঁর পিতার বাড়ি পাঠিয়ে মারিয়ার সঙ্গে রতিক্রিয়ায় মত্ত হওয়ার ঘটনা যে খুবই আপত্তিকর ও নিন্দাজনক এবং বিশ্বাসভঙ্গের মতো অমার্জনোয় অপরাধ তা বলা বাহুল্য । যাঁরা মুহাম্মদের জীবনচরিত এবং কোরানের তফসির লিখেছেন তাঁদের সকলেই যে ঘটনাটি যেমন ঘটেছিলো ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেছেন তা নয় । তাঁদের একাংশ সম্ভবতঃ মুহাম্মদ এরূপ কুৎসিত কান্ড ঘটাতে পারেন তা হয় বিশ্বাস করতে পারেন নি, না হয় এমন কুৎসিত ঘটনাটাটি উন্মোচন করা অনুচিত বলে ভেবেছেন । তারা তাই এই আয়াতগুলির প্রেক্ষাপট কী তার বাখ্যা দিতে গিয়ে অন্য গল্প রচনা করেছেন । সে জন্যে ইবনে কাথির বর্ণিত উক্ত তফসির ছাড়াও অন্য তফসিরও রয়েছে এবং মুহাম্মদের জীবন-চরিতে কেউ কেউ সেই সেই তফসিরকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন মুহাম্মদ-মারিয়া কান্ডকে নস্যাত করার অস্ত্র হিসেবে । অন্য সেই তফসিরে বলা হয়েছে তা যে নেহাতই বানানো গল্প তা বলা নিষ্প্রয়োজন । স গল্পটি এ রকমঃ মুহাম্মদ মধু খাওয়ার জন্যে জয়নবের ঘরে অনেক বেশী সময় কাটাতেন যার ফলে তাঁর অন্যান্য স্ত্রীরা, বিশেষ করে আয়েষা ও হাফসা তাঁর উপর খুব ক্ষুব্ধ ছিলেন । মুহাম্মদ তাই তাঁর স্ত্রীদের ক্ষোভ দূর করার জন্যে তাঁদের কাছে আর কোনোদিন মধু খাবেন না বলে শপথ করেন । মুহাম্মদের এই শপথ এবং আয়েষা ও হাফসার ব্যবহারে আল্লাহ তার অসন্তোষের কথা জানাতেই নাকি এই আয়াতগুলি অবতীর্ণ করেছিলো । দেখা যাক ৬৬/১ নং আয়াতের সেই তফসিরে ঠিক কী লেখা আছে । তফসিরিটি এরূপঃ হজরত মোহম্মদ মধুর শরবত ভালবাসিতেন । একদা তাঁর অন্যতম ভার্যা জয়নব কিঞ্চিত মধু সংগ্রহ করিয়া রাখিয়াছিলেন, হজরত যখন তাঁহার গৃহে উপস্থিত হইতেন তখন তিনি মধুপানা প্রস্তুত করিয়া দিতেন, তদনুরোধে তাঁহার আলয়ে হজরতকে কিছু অধিক বিলম্ব করিতে হইত । ইহা তাঁহার কোন কোন পত্নীর পক্ষে কষ্টকর হয় । তাঁহার সহধর্মিনী আয়শা ও হফসা পরষ্পর পরামর্শ করিয়া স্থির করিলেন যে, হজরত যখন জয়নবের গৃহে মধুর শরবত পান করিয়া আমাদের কাহার নিকটে আগমন করিবেন তখন বলিব যে, তোমার মুখ হইতে মগফুরের গন্ধ নির্গত হইতেছে । মগফুর অরকত নামক বৃক্ষ বিশেষের নির্যাস, তাহা অতিশয় দুর্গন্ধ । হজরত সুগন্ধ ভালবাসিতেন, দুর্গন্ধকে অত্যন্ত ঘৃণা করিতেন । একদিন তিনি মধু পান করিয়া তাঁহাদের প্রত্যেকের নিকট উপস্থিত হন । প্রত্যেকেই বলেন, “হজরত, আপনার মুখ দিয়া মগফুরের গন্ধ আসিতেছে” তিনি উত্তর করেন, “আমি মগফুর খাই নাই, জয়নবের আলয়ে মধু শরবত পান করিয়াছি” । তাঁহারা বলিলেন, “হয় তো মধুমক্ষিকা অরকত কুসুম হইতে মধু আহরণ করিয়াছিল” । ইহা পুনঃ পুনঃ বলা হইলে হজরত কহিলেন, “ঈশ্বরের শপথ, আর কখনও উহা পান করিব না “ । তাহাতেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয় । [সূত্রঃ গিরিশচন্দ্র সেনের কুরআন শারীফ] গিরিশ অবশ্য মারিয়াকান্ডটির কথা নস্যাত করেন নি । তিনি স্বীকার করেছেন যে মধু খাওয়ার ঘটনা নয়, আর একটি মত হলো সেই মুহাম্মদ-মারিয়া কান্ডই । গিরিশ তাঁর ঐ তফসিরেই ২য় অংশে লিখেছেন – পরন্তু এরূপ প্রসিদ্ধ যে, হজরত হফসার বারের দিন তাঁহার গৃহে যাইতেন, একদা তিনি হজরতের আজ্ঞাক্রমে পিত্রালয়ে গিয়াছিলেন, হজরত কেবত কুলোদ্ভবা দাসিপত্নী মারিয়াকে ডাকাইয়া নিজ সেবায় নিযুক্ত করেন । হফসা তাহা অবগত হইয়া অসন্তোষ প্রকাশ করেন । হজরত বলেন, “হে হফসা, যদি আমি তাহাকে নিজের সম্বন্ধে অবৈধ করি তাহাতে তুমি কি সম্মত নও” । তিনি বলিলেন, “হ্যাঁ সম্মত” । হজরত কহিলেন, “এ কথা কাহারও নিকটে ব্যক্ত করিবে না, তোমার নিকটে গুপ্ত রহিল” । হফসা সম্মত হইলেন । কিন্তু যখন হজরত তাঁহার গৃহ হইতে চলিয়া গেলেন, তৎক্ষণাৎ হফসা আয়শাকে যাইয়া এই সুসংবাদ দান করিয়া বলিলেন, “আমরা কেবতনারীর হস্ত হইতে মুক্তি পাইয়াছি” । পরে হজরত আয়শার গৃহে আগমন করিলে তখন আয়শা ইঙ্গিতে এই বৃত্তান্ত বলেন । এতুদপলক্ষে এই সুরা অবতীর্ণ হয় । অর্থাৎ মারিয়াকে পরমেশ্বর তোমার প্রতি বৈধ করিয়াছেন, তাহাকে কেন আপনার সম্বন্ধে অবৈধ করিয়া তুলিলে ও শপথ করিলে ?

Print Friendly, PDF & Email

Mdh Mahadi