Atheist in Bangladesh
পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করাও নবীর সুন্নত

পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করাও নবীর সুন্নত

পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করাও নবীর সুন্নত

নবীর এই সাত নাম্বার স্ত্রীর নাম ছিলো জয়নব বিনতে জাহশ।
যদিও প্রথমে তিনি নবীর ফুফাতো বোন ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনাচক্রে প্রথমে সে হলেন নবীর পালকপুত্র জায়েদ ইবনে হারিসা ওরফে জায়েদ ইবনে মুহাম্মদের স্ত্রী এবং তার সাথে তালাকের পর হলেন নবীর স্ত্রী। এবং এই ঘটনাচক্রে নবী তার প্রয়োজনে সময়ে সময়ে কুরআনের আয়াতও নাজিল করেছেন।
জায়েদ ইবনে হারিসা ছিলেন বনু কালব গোত্রের এবং ছোট বয়সে দাস বিক্রতাদের কাছে অপহৃত হয়। খাদিজার ভাতিজা তাকে কিনে খাদিজাকে উপহার দেন এবং খাদিজা বিয়ের উপহার হিসেবে মুহাম্মদকে দিয়ে দেন। মুহাম্মদ জায়েদকে খুবই পছন্দ করতেন বলে তার নাম দেন আল-হাবীব। পরবর্তীতে জায়েদের পরিবার জায়েদকে ফিরিয়ে নিতে চাইলেও জায়েদ মুহাম্মদের সাথেই থাকতে চান তাই মুহাম্মদ খুশি হয়ে তাকে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহন করেন এবং পালকপুত্র গ্রহনের নিয়ম অনুযায়ী কাবাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এবং তাকে উত্তরাধিকার হিসেবে পুর্ন অধিকার দেন।
ঠিক এই সময় পর্যন্ত আল্লাহর পালকপুত্র নিয়ে কোন সমস্যা ছিলোনা এমনকি ইসলামেও পালকপুত্র নিয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা ছিলোনা কারন মুহাম্মদ আবার জানতেন না বা তার আল্লাহও তাকে আগের থেকে বলেননি যে তার পালকপুত্রের স্ত্রীকে ভালো লেগে যাবে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করত হবে।
জায়েদ যখন জয়নবকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন জয়নব তা অস্বীকার করেন কারন তিনি কুরাইশ বংসের মেয়ে হয়ে একজন দাসকে বিয়ে করতে চাননি।
তখনই মুহাম্মদ সূরা আহজাবের ৩৬ নং আয়াত নাজিল করেন
– “আল্লাহ ও তাঁর রসুল কোন বিষয়ে যখন কোনো হুকুম বা ফয়সালা দেন, তখন কোনো ঈমানদার পুরুষ কিংবা ঈমানদার নারী সে বিষয়ে অন্য কিছু করার এখতিয়ার রাখেনা। যে ব্যাক্তিই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নাফরমানি করবে, সে-ই পরিষ্কার গুমরাহির পথ ধরবে”।
এই আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথেই জয়নব রাজি হয়ে যান এবং জায়েদকে বিয়ে করেন। কিন্তু এই বিয়ে বেশিদিন টিকতে পারেনি।
ইবনে সা’দ ও তাবারীর বর্ণনানুযায়ী, একদিন মুহাম্মদ জায়েদের বাসায় যেয়ে দুর্ঘটনাক্রমে জয়নবকে সল্পবসনা অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং বলেন সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি হৃদয়কে পরিবর্তন করে দেন।
পরবর্তীতে জায়েদ যখন মুহাম্মদকে বললেন আপনি যদি জয়নবকে পছন্দ করেন আমি তকে তালাক দিতে পারি কিন্ত মুহাম্মদ তাঁর বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে বললেন- ‘তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো’।
এই কথা শুনে এখন মনে হবে মুহাম্মদ কি উদার ছিলেন কিন্তু তাঁর চরিত্র সূরা আহজাবের পরবর্তী আয়াতসমূহতেই বোঝা যাবে।
এরপরে জয়নব এবং জায়েদের ঝগড়া এবং বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
এর কিছুদিন পরই সূরা আহজাবের ৩৭ নং আয়াত নাজিল হয় মানে মুহাম্মদ আল্লাহ র নামে নাজিল করেন আরকি। এই আয়াতটী হলো- “স্মরণ কর, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন আর তুমিও যাকে অনুগ্রহ করেছ তাকে তুমি যখন বলছিলে- তুমি তোমার স্ত্রীকে (বিবাহবন্ধনে) রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে লুকিয়ে রাখছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করতে চান, তুমি লোকদেরকে ভয় করছিলে, অথচ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি এ অধিকার রাখেন যে, তুমি তাঁকে ভয় করবে। অতঃপর যায়্দ যখন তার (যায়নাবের) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দিলাম যাতে মু’মিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব নারীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মু’মিনদের কোন বিঘ্ন না হয়। আল্লাহর আদেশ কার্যকরী হবেই”।
এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর বিয়ে করতে আর কোন বাধা রইলো না।
যেহেতু পালকপুত্র মানে নিজেরই পুত্র এবং পালক পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করা গর্হিত কাজ তাই সন্তান দত্তক নেয়ার রীতি মুহাম্মদ ইসলামে রহিত করেন এবং জায়েদ বিন মুহাম্মদের নাম পুনরায় জায়েদ বিন হারিসায় পরিবর্তিত হয়।
এই প্রসঙ্গে সূরা আহজাবে আয়াত নং ৪ ও ৪০ এ লেখা আছে।
৪ন নং আয়াত- “আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি ও তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের (আসল) পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং (তিনিই সরল) পথ প্রদর্শন করেন।”
৪০ নং আয়াত- “মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।”
সুতরাং জয়নবের সাথে বিয়ে হওয়ার পর জায়েদের সাথে মুহাম্মদের আর পিতাপুত্রের সম্পর্ক থাকলনা।
মুহাম্মদ এরপর জায়েদকে সেনাপতি বানিয়ে মাত্র ৩০০০ সৈনিক দিয়ে বাইজেন্টাইন শহর দখল করতে পাঠান যেখানে বাইজেন্টাইন সৈনিক ছিল ২ লক্ষ, সেই যুদ্ধে জায়েদ মৃত্যুবরন করে।
জয়নব বেশি আকর্ষনীয় হওয়ার কারনে মুহাম্মদ তাঁর প্রতি বেশি মনযোগ দিতেন। জয়নবের প্রতি অধিক দুর্বলতা আয়িশা পছন্দ না করায় এই ব্যাপারে মুহাম্মদকে প্রশ্ন করার সাথে সাথেই মুহাম্মদ তাঁর আল্লাহকে দিয়ে সূরা আহজাবের ৫১ নং আয়াত নাজিল করেন – “(হে রাসূল!) আপনি আপনার স্ত্রীদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে (আবার) কামনা করলে তাতে আপনার কোন ভয় নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।”
সুতরাং, মুহাম্মদের রব তার কোন মনের আশাই অপূর্ণ রাখেনা, কারন তার রব তার আল্লাহ তারই সৃষ্টি এবং তার মন বাসনা পূর্ণ করতে সে তার নিজেরই মনগড়া আয়াত আল্লাহর নামে নাজিল করেন।
Print Friendly, PDF & Email

আনিকা হক মল্লিক