Atheist in Bangladesh

স্বজনেরা দায়ও নিচ্ছেন না মৃত মানুষের!

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্সকরোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্সজ্যামাইকায় বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকান রমিজ চাচাকে নেভির হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে সেদিনও দেখলাম মান্নান গ্রোসারিতে তাজা মাছ খুঁজতে যেতে। চাচা তাজা মাছ না পেয়ে মুসলিম সেন্টারে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। জানতে চাইলে বলেছেন, বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছেন। আর তাই একটু হাঁটতে বেরিয়েছেন। তাঁর অন্য বন্ধুদের দেখেও এমনই মনে হল।

এর মাত্র আটদিন পরই রমিজ চাচা নেভির হাসপাতালে।চাচা থাকতেন মেয়ের বাসায়। চাচার মেয়ের স্বামী ও তাদের দুই বাচ্চাসহ সবাই এখন করোনায় আক্রান্ত। শুনেই ফোনে কথা বলেছি। মেয়ে জানিয়েছেন, ঘরের সব বাজার আছে। চাচাই মেয়ে জামাইকে কষ্ট না দিতে সব কিছু অতিরিক্ত কিনে ঘর ভর্তি করে রেখেছে

এই ঘটনা এখন একটি পরিবারের নয়। নিউইয়র্ক নগরের জ্যামাইকার সব ঘরে ঘরে এই অবস্থা। প্রতিটা পরিবারেই কেউ না কেউ অসুস্থ। আমরা তাদেরকে কোন সাহায্য করতে পারছি না। মৃত্যুশোকের কান্নায় নিউইয়র্কের আকাশ এখন ভারী। এমন এক পরিস্থিতি সেই করোনার ভয়ে কেউ কাউকে পাশে থেকে সমবেদনাও জানাতে পারছে না।

কিছু কিছু সংগঠন বিনা মূল্যে খাবার বিতরণ করছে। পরিবারের সবাই অসুস্থ হওয়ায় তারা তাও সংগ্রহ করতে পারছে না। অনেকেরই খাবার ফুরিয়ে গেছে। কিছু সংগঠন বাসায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। অন্য ধর্মের সবাই সাদরে গ্রহণ করছেন। কিন্ত অনেক মুসলিম পরিবার তা হালাল নয় বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। যাদের ঘরে রোগী আছে, তারা কেমন করে ঘরে রোগী রেখে বের হবেন? পরিচিত স্বজনেরা দরজার সামনে খাবার রেখে আসছেন। তাও কত দিন সম্ভব হবে, জানা নেই কারও।

এদিকে নিউইয়র্কসহ আমেরিকায় প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।একটি মৃত্যুর খবর শুনতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে আরেকটি মৃত্যুর খবর। ১ হাজার ৭০০ মরদেহ নগরের বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে জমা হয়ে আছে। এসব মরদেহের দায় নেওয়া তো দুরের কথা, সেসব মৃত মানুষের পরিবারের লোকজনের কোনো খোঁজ মিলছে না। তাদেরকে গনকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অনেকেই নিজে ড্রাইভ করে হাসপাতালের সামনে প্রিয়জনকে রেখে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ১২১ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

Ref: prothom alo


 

Print Friendly, PDF & Email

কমল চন্দ্র দাশ