Atheist in Bangladesh

শত বছরের প্রাচীন সংস্কার কোথায়?

তোবা আন্দোলনের তৃতীয় বা চতুর্থ দিন। ২০১৪ সালের অগাস্ট। মেয়েরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। মালপত্র রাখার বড় বড় টেবিলগুলো খালি করে পরপর স্যালাইন ঝোলানো হলো। অনশন চলছে, স্লোগান চলছে, এর মধ্যে এই মেয়েটা কোনোদিকে না তাকিয়ে স্যালাইন পুশ করে যাচ্ছে।

এই ছেলেটা, ছবিতে যার চিকিৎসা চলছে, তাকে মাত্র ধরাধরি করে নিয়ে আসা হয়েছিল। খুব সম্ভবত পিঠে অনেকগুলো ছররা গুলি লেগেছিলো। কারো পিঠে গুলি লাগলে কেমন করে সেটা আস্তে আস্তে সরাতে হয়, কেমন করে রক্ত বন্ধ করতে হয়, হা করে এসব দেখতে দেখতে এই ছবি তোলা। মনীষাদি এমনি একজন মানুষ। নিভৃতে কাজ করে, এবং প্রচুর কাজ করে।

ওর ছবি এবং ভিডিও যেগুলো ফেইসবুকে দেখি, সেখানে একটা অসাধারণ জিনিস খেয়াল করি। রুজি রুটির প্রশ্নে একজন নারী যখন সততার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, পরিশ্রম করে, তখন শত বছরের প্রাচীন সংস্কার কোথায় উড়ে চলে যায়। বরিশালের অটোরিকশাচালকেরা সামাজিক বা ধর্মীয় সংস্কারের উর্ধে নয়, একটা বড়ো অংশই বরং ধর্মীয় আচার মেনে চলেন, পোশাকে বা জীবনে। একজন মনীষা চক্রবর্তী যখন তাদের হক আদায়ে মাঠে নেমে মার্ খেয়েছে, জেলে গেছে, তখন এই মানুষগুলো যে ভালোবাসা ও ডেডিকেশন দেখিয়েছে, যেভাবে পুলিশের হাত থেকে লিডারকে বাঁচানোর জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, এই দৃশ্যগুলো দেখে বারবারই মনে হয়েছে, সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই সমাজ এগোয়, নারী পুরুষের বিভেদ, ধর্মের বিভেদ, ধনী গরিবের বিভেদ ঘোচে।

সিটিকর্পোরেশনের নির্বাচন ঠিকমতো হবে কি হবেনা, সেটা অন্য প্রসঙ্গ। কিন্তু রাজনীতির মাঠে মনীষারা সক্রিয় থাকলে নতুন রাজনীতি তৈরী হয়, নতুন সমাজও তৈরী হয়।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তীর জন্যে শুভকামনা।

Print Friendly, PDF & Email

Palash Chandra Sarkar