দু বছরেও প্রকাশক দীপন হত্যার অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ

0

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের দুই বছর আজ (৩১ অক্টোবর)। ২০১৫ সালের এই দিনে রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিজের প্রকাশনী সংস্থা জাগৃতির কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় প্রকাশক দীপনকে। এ ছাড়া খুনিচক্র রাজধানীর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের মালিক-প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এই দুই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা। দীপনসহ ধারাবাহিক লেখক-প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককেও ধরতে পারেনি পুলিশ। ওই দুই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে একজন। মেজর জিয়াকে ধরাই এখন পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশক দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, তদন্ত নিয়ে বলার কিছু নেই। দেশে আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য সরকারের কর্তব্য বিচারের ব্যবস্থা করা।

মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করায় ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর প্রকাশক দীপনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একদল প্রশিক্ষিত কিলার। একই কারণে হত্যার চেষ্টা করা হয় প্রকাশক টুটুলসহ তিনজনকে। এসব ঘটনায় শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিজিৎ রায় ও দীপন থেকে শুরু করে কলাবাগানের জুলহাজ মান্নান হত্যাকা- পর্যন্ত যত লেখক, প্রকাশক ও ব্লগার খুনের ঘটনা ঘটেছে, তার সব রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত শরীফুল ইসলাম ওরফে সাকিব ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ ওরফে মুকুল রানা বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। গ্রেপ্তার হয়েছে মো. আ. সবুর ওরফে আ. সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু, মইনুল হাসান ওরফে শামীম ওরফে শিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান, মো. রশিদ-উন-নবী ভূঁইয়া টিপু ওরফে রায়হান, খাইরুল ইসলাম এবং সুমন হোসেন পাটোয়ারী ওরফে সাকিব।

প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মঈনুল হাসান ওরফে সিফাত ওরফে ইমরান, আব্দুর সবুর ওরফে আব্দুর সামাদ ওরফে সাদ ও খায়রুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই দীপন হত্যামামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ১০ প্রশিক্ষিত কিলার অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে চারজন ধরা পড়েছে। একজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আরও ৫ জন রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুই সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেওয়া ১০ কিলারকে টঙ্গীর বর্ণমালা রোডের একটি বাড়িতে তিন মাস কিলিং অপারেশন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটার দিকে লালমাটিয়ায় অভিজিতের বইয়ের প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে যায় ৫ সদস্যের কিলার গ্রুপ। একই দিন বিকালে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় গলা কেটে হত্যা করা হয় প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে। ওই দুই ঘটনায় শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর থানায় বাংলাদেশ দ-বিধিতে মামলা করা হয়।

আ. সবুর ও সুমন হোসেন পাটোয়ারীর জবানবন্দি অনুযায়ী, তাদের একটি গ্রুপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন ব্লগের ওপর নিয়মিত নজর রাখে। তারাই মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের কাছে রিপোর্ট দাখিল করে দীপন ও আহমেদুর রশীদ টুটুলের বিষয়ে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, দুই প্রকাশকই মুক্তমনা লেখক অভিজিতের বই প্রকাশ করেছে। এর পরই সৈয়দ জিয়াউল হক ওই রিপোর্ট পাঠায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শূরা কমিটির কাছে। শূরা কমিটি ওই দুই প্রকাশককে হত্যা করতে ফতোয়া দেয়। এর পরই চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ‘মাশুল’ হিসেবে সংগঠনে পরিচিত শরীফুল ওরফে মুকুল রানা এবং সেলিমের কাছে দীপন ও টুটুলের ছবি ধরিয়ে দিয়ে অপারেশন পরিচালনার নির্দেশ দেন। এর পর একাধিকবার রেকি করে ওই দুই সন্ত্রাসী হামলা চালায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা।

এদিকে গত ২৪ অক্টোবর দীপন হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের সময় ছিল। ওই দিন প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আগামী ২১ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

সূত্র : আমাদের সময়

Share.

About Author

Leave A Reply