ঈসা নবী কি আসলেই নবী মুহম্মদের কথা বলেছিলেন?

0

লিখেছেন – কামিকাজিঃ  বাইবেলে যোহন 14:16 বলা আছে :

আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবো,সে তোমাদের অন্য সাহায্যকারী পাঠাবেন, যে চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকবে!

মুসলমানরা দাবি করে, এই অন্য সাহায্যকারী হল আহমাদ যার অর্থ ‘প্রশংসনীয়’ এবং মুহম্মদ এর অর্থও ‘প্রশংসনীয়’। যেহেতু দুটি শব্দেরই অর্থ এক সেহেতু বাইবেলে মুহম্মদের কথাই বলা হয়েছে।

প্রবীণরা যখন কোন শিশুর নামকরন করে থাকেন, তখন তারা শিশুর গুনের উপর নির্ভর করে নামকরন করেন না। কারন নবজাতক শিশুর গুন বিচার করে নামকরন করা অসম্ভবপ্রায়। যদি ছোটবেলায় কারো নাম ‘সম্রাট’ রাখা হয়, তার মানে এই না সে কোন সম্রাট।

ঠিক তেমনিভাবে শিশু মুহম্মদের নামকরন করেন তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব। মুহম্মদ তার আসল নাম, কিন্তু কোন বৈশিষ্ট্য নয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।

যেমন, রশিদ ( নির্দেশিত), বশির (সুসংবাদদাতা), রসুল (সংবাদ আনয়নকারী), মোস্তফা (মনোনীত), নবী (নবুয়তপ্রাপ্ত)  এগুলো মুহম্মদের বৈশিষ্ট্য, কিন্তু তার আসল নাম নয়। তার আসল নাম মুহম্মদ, যেটা তার দাদা দিয়েছিলেন। বোকামির জন্য আমরা বন্ধু বান্ধবকে মজা করে ‘গাধা’ বলে ডাকি, তার মানে এই নয় এটা তার নাম।

এটাই মুহম্মদ এবং আহমাদ এর মধ্যে পার্থক্য।

সুরা আস-সফের ছয় নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম হবে আহমাদ।’

কিন্তু এই আয়াতে বলা উচিৎ ছিল, এমন একজন নবী আসবে ‘যে হবে আহমাদ’, ‘তার নাম হবে আহমাদ’ নয়। এখানেই মূল প্যাঁচ। এখানে আহমাদ একটি নাম কোন বৈশিষ্ট্য নয়।

আবার মুসলমানরা এমনও দাবি করে থাকে, ১) মুহম্মদ, আহমাদ শুনতে একই রকম ২) এবং আরামিক এরাবিক উচ্চারনে মুহম্মদ এর উচ্চারন হয় মেহমেদ, যা আহমেদ এর খুব কাছাকাছি।

ব্যাপারটা অনেকটা এমন, যদি কারো নাম হয় জরিনা, শহরে এসে নিজের নাম পালটে সে হয়ে গেল জেরিনা।

আমরা এমন অনেক উদাহরন দেখি, শুনতে একই শোনালেও অর্থ হয় ভিন্ন। এদেরকে বলা হয় হোমোনিমস/হোমোফোনস। যেমন দুটি শব্দ ‘sea’ এবং ‘see’ শুনতে একই শোনালেও দুটি শব্দের অর্থ কিন্তু ভিন্ন।

ঠিক তেমনি এরাবিক ‘মুহম্মদ’ এর সাথে এরামিক ‘মেহমেদ’ কে মিশিয়ে আহমাদ বানানোর কোন যৌক্তিক কারন নেই।

খ্রিস্টানরা দাবি করে, বাইবেলে ‘অন্য সাহায্যকারী’ বলতে পবিত্র আত্মাকে বোঝানো হয়েছে, মুহম্মদকে নয়, যেটা বাইবেলের (New international Version) দ্বারা প্রমানিত। মুহম্মদ একজন মানুষ যিনি ইসলাম ধর্মের নবী, তিনি কোন পবিত্র আত্মা নন।

এর পিছনে যুক্তিগুলো হল,

১) প্রায় ৫৬০০ গ্রীক ম্যানুস্ক্রিপ্টে সবগুলিতে ‘paraclete’ অর্থাৎ ‘ সাহায্যকারী’ বলা হয়েছে, ‘periclytos’ অর্থাৎ ‘প্রশংসনীয়’ নয়।

২) বাইবেলে স্পস্টভাবে একই উত্তরন যোহনে বলা আছে,

কিন্তু সেই সাহায্যকারী পবিত্র আত্মা, যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দেবেন, আর আমি তোমাদের যা যা বলেছি, সে সকল বিষয় তিনি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন (যোহন 14:26)। এখানে স্বভাবতভাবেই মুসলমানরা পরাজিত। এখানে ‘সাহায্যকারী’ (যোহন 14:16) বলতে যীশুর অনুগামীদের সাহায্যের কথা বলে হয়েছে, ৫৫০ বছর পরের মুহম্মদের অনুসারীদের নয়। এবং এখানে উল্লেখ্য যে, মুহম্মদ যীশুর উম্মত ছিল না। মুহম্মদের বাবা দাদা এমনকি তার পূর্বপুরুষরাও ছিলেন পৌত্তলিক।

৩) যোহন 16 তে বলা আছে, এই পবিত্র আত্মা তাদের সাথে আজীবন থাকবেন। কিন্তু মুহম্মদ ৬০/৬৩/৬৫ বছর বয়সেই মারা যান।

৪)  উত্তরীয় ১৭ তে বলা আছে, যীশু তার শিষ্যদের বলেছিলেন, তোমরা সেই সাহায্যকারীকে চেন। কিন্তু যীশুর উম্মতদের কেউ মুহম্মদকে চিনতেন না, কারন মুহম্মদ আরও ৫৫০ বছর পর জন্মগ্রহন করেছিলেন। এবং যীশু এও বলেছিলেন সেই সাহায্যকারী তার শিষ্যদের মধ্যেই কেউ হবে ( উত্তরীয় ১৭)। মুহম্মদ তার শিষ্যদের মধ্যে কেউ ছিলেন না এবং ৫৫০ বছর আগে তার আসার প্রশ্নই আসে না।

এমনকি মুসলমানরা হিন্দুদের গীতাতেও নাকি মুহম্মদের কথা বলা আছে বলে দাবি করেন ( জাকির নায়িকসহ)। গীতায় বলা আছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে একজন মানুষ উটে চড়ে আসবে। মুসলমানরা এতে করেই দাবী করে নেয় এখানে মুহম্মদের কথা বলা হয়েছে। উটে চড়ে কেউ আসলেই সে যে মুহম্মদ, এই দাবী কতটা হাস্যকর তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

সুতরাং এই ব্যাপারটা মোটামুটি স্পস্ট ঈসা নবী কখনই মুহম্মদ আসবে এমন কোন ইঙ্গিত দেননি। এমনকি আগের কোন নবীও এই ব্যাপারে কিছুই বলেননি। প্রাচীন কোন গ্রন্থে মুহম্মদের আসার কোন সুস্পস্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। মুসলমানরা বিভিন্ন উপায়ে জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা করেন মাত্র যেটা অন্যন্য ক্ষেত্রেও করা হয়ে থাকে।

” সত্য অনেক তিক্ত হলেও তা সত্যই”

Share.

About Author

Leave A Reply