Atheist in Bangladesh

ইউরোপের নাস্তিক্যবাদের প্রসার ঘটবে আরো দ্রুত

খ্রীষ্টমাসের ছুটি শুরু হয়েছে। গতকাল আমার এক বয়স্ক সহকর্মী একসঙ্গে ঘুরে ঘুরে অফিসের সবাইকে খ্রীষ্টমাসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। ভদ্রমহিলাই বয়সে ষাটোর্ধ। আমার রুমে এসেই বললেন,- জানি তুমি নাস্তিক, কোনো ধর্মীয় উসব পালন কর না, তবুও তোমাকে খ্রীষ্টমাসের শুভেচ্ছা।

আমি তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,- তোমরা কি যীশুর পিতৃহীন জন্মের কিচ্ছায় কিংবা মেরীর কুমারী অবস্থায় মাতৃত্বে বিশ্বাস কর? তারা তিনজনই বললো,- না, আমরা তাতে বিশ্বাস করি না। পিতা ছাড়া সন্তানের জন্ম সম্ভবই না। তারপর জিজ্ঞেস করলাম,- তাহলে তোমরা খ্রীষ্টমাস পালন কর কেন?

তারা বললো,- সংস্কৃতি। খ্রীষ্টমাসে পরিবারের সবাই এক হই, একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করি, উপহার বিনিময় করি, ভালোই লাগে। বুড়ো হয়ে গেছি, এখন আর এসব পুরনো সংস্কৃতি বা অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবো না। তবে আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের ছেলে-মেয়েরা যে আর খ্রীষ্টমাস পালন করবে না এটা নিশ্চিত।

ইউরোপের মোট জনসংখ্যার একটা বিরাট অংশ হচ্ছে ৬৫উর্ধো বা সিনিয়র সিটিজেন। আর এরাই মূলত ধর্মে বিশ্বাস করে বা ধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করে এবং পারিবারিক ভাবে তরুণদেরকে তা পালনে বাধ্য করে বা উৎসাহিত করে। এই ৬৫উর্ধো জেনারেশনটা গত হলে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নাস্তিক ইউরোপের ধর্মীয় অবস্থা আগামী ২০/২৫ বছর পর কেমন হবে, তা এখন বুঝতেই পারছেন।

ঘাতক