ধর্ম বিষয়ক সমালোচনা-আলোচনা-ব্যাঙ্গ বা স্যাটায়ার

0

গতকাল একটা ভিডিও ক্লিপ দেখলাম, খুবই হাসির। যীশু খ্রীষ্ট সেজে একজন অভিনেতা পথে ঘাটে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। যীশুর যে সমস্ত অলৌকিক ক্ষমতার কথা লোকমুখে প্রচলিত আছে, যেমন অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া, মৃত প্রাণীকে জীবন দান করা, কিংবা ইশারায় পানি থেকে ভূমিতে মাছ তুলে ফেলা, ইত্যাদি ঘটনাগুলো যাদুশিল্পের কারসাজি দিয়ে মানুষকে ঘটিয়ে দেখাচ্ছেন। মানুষ আসলেই বোকা বনে যাচ্ছে, যতক্ষণ না তারা জানতে পারছে এটা আসলে একটা টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং এর পেছনে পুরোটাই চালাকি।

আমি বলতে চাচ্ছি,- উন্নত, শিক্ষিত আর ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে টেলিভিশন অনুষ্ঠান করে ধর্মের সমালোচনা করা বা ধর্মকে ব্যাঙ্গ করা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। জর্জ কার্লিন, রিকি গার্ভাইজ কিংবা বিল হিক্স এর মতো বিখ্যাত কমেডিয়ানরা মঞ্চ বানিয়ে ধর্মকে ব্যাঙ্গ করেন, মানুষকে হাসান, বিনোদন দেন, আর ধর্মের সমালোচনার সে কৌতুকানুষ্ঠানগুলো প্রচার করা হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

উন্নত, শিক্ষিত আর ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মানুষের তাতে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগার খবর পাওয়া যায়না। এসব দেশেও অনেক ধার্মিক আছে, তারা তাদের মতো করে ধর্মকর্মও করে। ধর্মকে ব্যাঙ্গ করা এসব অনুষ্ঠান যাদের পছন্দ নয়, তারা তা এড়িয়ে চলে, বা টেলিভিশনে অন্য অনুষ্ঠান দেখে। তারা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে ধর্মকে ব্যাঙ্গ করা বা ধর্মের সমালোচনা করা এসব অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবীতে আন্দোলন করে না। কারন, তারা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।

তারা বিশ্বাস করে- প্রকাশ্যে ধার্মিকদের ধর্মকর্ম করার বা ধর্ম প্রচার করার স্বাধীনতা থাকলে প্রকাশ্যে ধর্মের সমালোচনা বা ধর্মকে ব্যাঙ্গ করার অধিকারও নাস্তিকদের আছে। আর এটাই হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা বা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যাকে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতে সুকৌশলে মানুষকে শিখতে বা বিশ্বাস করতে দেয়া হয়না। ইসলামী রাষ্ট্রের গণমাধ্যম মানেই- শুধুই ধার্মিকদের তাতে অধিকার, ধর্ম শুধুই পালন করা, প্রচার করা, বা রাষ্ট্র ও সমাজের উপর চাপিয়ে দেয়ার বিষয়। ধর্মকে ব্যাঙ্গ করা এখানে কল্পনাতীত এবং ধর্মের সমালোচনা মানেই ভয়াবহ অপরাধ। যদিও ইসলামী রাষ্ট্রের শাসকেরা তাদের রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে মিথ্যা দাবী করতে লজ্জা পান না।

Share.

About Author

Leave A Reply